ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বিচ্ছিন্ন ইরানের বি-ওয়ান সেতু
ইরানকে পাথরের যুগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হুমকির ২৪ ঘন্টা যেতে না যেতেই মার্কিন বিমান হামলায় ধসিয়ে দেয়া হয়েছে আলবোর্জ প্রদেশে বৃহত্তম বি-ওয়ান সেতু।
কারাজ শহরের কাছে অবস্থিত এই সেতুটি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে উঁচু ব্রিজ। মার্কিন ও ইসরালি বাহিনীর যৌথ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেতুটির মধ্যভাগ, হতাহত হয়েছে শতাধিক। হামলা হয়েছে তেহরানের একটি ইস্পাত কারখানায়ও।
তবে কি ইরানকে পাথরের যুগে নিয়ে যাওয়ার অভিযান শুরু করলো যুক্তরাষ্ট্র? ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে কি শেষ হবে যুদ্ধ? নাকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে ইরানের পাল্টা হামলায় আরও দীর্ঘ হবে যুদ্ধপরিস্থিতি?
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার ৩৫তম দিনে গোলাবর্ষণের তীব্রতা বেড়েছে। বৃহত্তম সেতু কারাজ আর ইস্পাত কারখানায় বিমান হামলায় একশ' ছাড়িয়েছে হতাহতের সংখ্যা। বেশি দেরি হওয়ার আগেই তেহরানকে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইরানকে পিছু হটানো যাবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরগচি। এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রশাসনে বড় রদবদল এনেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ সহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস।
কারাজ শহরের বি-ওয়ান সেতুতে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলার পরেও ইরানের অবশিষ্ট অবকাঠামোগুলোতে হামলা জোরদার করা হয়নি বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামজিক মাধ্যমের এক পোস্টে বি-ওয়ান সেতু ধ্বংসের দাবি করে এরপর ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে বলেও হুঁশিয়ার করেছেন। বেশি দেরি হওয়ার আগেই তেহরানকে সমঝোতায় আসারও আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজের নৈতিক পতনের বার্তা দিয়েঝে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরগচি। বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পিছু হটাতে পারবে না বলেও দাবি আরগচির। তবে শুধু নিন্দা জানিয়েই থেমে থাকেনি ইরান। ইসরাইলকে লক্ষ্য করে কয়েক দফায় মিসাইল হামলা চালিয়েছে। এতে আহত হযেছে অন্তত ১৪৮ ইসরাইলি।
হামলা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত একটি মার্কিন ইস্পাত কারখানায়। কুয়েতের অন্যতম প্রধান তেল শোধনাগার ও রপ্তানি কেন্দ্র মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে শোধনাগারের কয়েকটি ইউনিটে আগুন লেগে যায়। এছাড়া যেকোনো হামলার জন্য ইরানি কমান্ডারদের প্রস্তুত থাকতে বলেছেন দেশটির সেনাপ্রধান। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযান শুরু করলে যেন কোনো মার্কিন সেনা জীবিত ফিরতে না পারে সেনাবাহিনীকে এমন নির্দেশও দিয়েছেন।
ইরান ছাড়াও ইসরাইলকে লক্ষ্য করে হামলা হামলা চালাচ্ছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইরানের পাশাপাশি লেবাননেও বেড়েছে ইসরাইলি আগ্রাসন। যুদ্ধ শুরুর পর দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মোট ১৫ সদস্যকে হত্যার দাবি করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তারই পাল্টা জবাব দিচ্ছে গোষ্ঠীটি। আর ইরান ও লেবাননের সাথে মিলে ইসরাইলে রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও।
এদিকে ইরান যুদ্ধ বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ইরান যুদ্ধ চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালী স্থিতিশীল হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে চীন। মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যেকোনো ধরণের সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে রাশিয়া। আর নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করে ইরান সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতা করার পরামর্শ দিয়েছেন ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ।
অন্যদিকে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রশাসনে বড় রদবদল এনেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরখাস্ত করা হয়েছে সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ র্যান্ডি জর্জ আর অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে। সেনাবাহিনীর ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড ট্রেনিং কমান্ডের প্রধান জেনারেল ডেভিড হডনে এবং আর্মি চ্যাপলেন কোরের প্রধান মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিনকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: