• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ থেকে অবরোধ প্রত্যাহারে ইরানকে নতুন করে ডেডলাইন দিলো ট্রাম্প

প্রকাশিত: ০৯:২৭, ৬ এপ্রিল ২০২৬

ফন্ট সাইজ
হরমুজ থেকে অবরোধ প্রত্যাহারে ইরানকে নতুন করে ডেডলাইন দিলো ট্রাম্প

ছবি: ডোনাল্ড ট্রাম্প (সংগৃহীত)

গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য ইরানকে নতুন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যদি এই সময়সীমা মেনে নেয়, তাহলে আগামী মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী সব দেশের জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে গতকাল রবিবার একটি পোস্ট দিয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘মঙ্গলবার, রাত ৮টা পূর্বাঞ্চলীয় সময়!’ পোস্টে এর বেশি আর কিছু লেখেননি তিনি।

পরে একই দিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘তারা যদি (ইরান) এগিয়ে না আসে এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধই রাখতে চায়, তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বলতে আর কিছু থাকবে না তাদের। পুরো ইরানে যতো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আছে— সব ধ্বংস করা হবে।’

আগের দিন শনিবারও হরমুজ ইস্যুতে হুমকি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, ‘মঙ্গলবার হবে ইরানের জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র আর সেতু দিবস, সব কিছু গুঁড়িয়ে এক করে দেওয়া হবে, এরকম আর হয়নি। এখনই (হরমুজ) প্রণালী খুলে দাও, পাগল বেজম্মারা, না হলে তোমাদের জাহান্নামে পড়তে হবে। শুধু দেখো, আল্লাহর কাছে দোয়া করো।’

প্রসঙ্গত, আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যতো তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।

হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রফতানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধার পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা দেয়— হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের মিত্রদেশগুলোর জাহাজ চলাচল করলে সেসব জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ হরমুজে ১২টিরও বেশি জাহাজে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সমুদ্রে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা।

নিরাপত্তা সংকটের কারণে স্বাভাবিকভাবেই হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেছে এবং তার প্রভাবে বাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেল-গ্যাসের দাম। ফলে ট্রাম্পের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর চাপ বাড়ছে। -সূত্র : এএফপি, ইন্ডিয়া টিভি।

বিভি/এআই

মন্তব্য করুন: