• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে এআইকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরাইল!

প্রকাশিত: ১৩:৩৭, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে এআইকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরাইল!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন নৈতিকতা এবং মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করা সিদ্ধান্তে মানুষের ভূমিকা কমে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক চলছে, তখন সামরিক কর্মকাণ্ডে এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে ইসরাইল। গাজায় বোমা হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য নির্ধারণে এআই ব্যবহারের অভিযোগের পর এবার অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ভূমি নজরদারি, স্থাপনা শনাক্ত ও উচ্ছেদ ত্বরান্বিত করতেও এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গবেষক ও মানবাধিকারকর্মীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল ‘ইমিসাইট’ নামের একটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ইসরাইলি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাফায়েল তৈরি এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিস্তীর্ণ এলাকার ছবি ও ভূমির পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরে এসব পরিবর্তনকে অনুমোদনহীন স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করে উচ্ছেদ বা স্থাপনা ধ্বংসের কারণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তুরস্কের সংবাদমাধ্যম পালডিজিটাল জানিয়েছে, প্রথমে নাকাব মরুভূমিতে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি বেদুইনদের বিরুদ্ধে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ইমিসাইটের মাধ্যমে নাকাবের ১০ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে ২ হাজার ৬০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বেদুইনকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

এখন একই প্রযুক্তি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ইসরাইল ল্যান্ড অথরিটির একটি এনফোর্সমেন্ট ইউনিট গঠন করা হয়। ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠন পিস নাউ এটিকে ‘অধিগ্রহণের দিকে একটি পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, ওই ইউনিট অনুপ্রবেশ শনাক্তে এআইভিত্তিক উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

ফিলিস্তিনের কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের কর্মকর্তা আমির দাউদ বলেন, নাকাব অঞ্চলে পরীক্ষিত নজরদারি ও উচ্ছেদের মডেল এখন পশ্চিম তীরে প্রয়োগ করা হচ্ছে। আল জাজিরার পক্ষ থেকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ও ইমিসাইটের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

পিস নাউ ও কেরেম নাভোটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-২০২২ সময়ের তুলনায় ২০২৩-২০২৫ সময়ে পশ্চিম তীরের এরিয়া সি ও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে স্থাপনা ধ্বংস ৮০ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে বছরে গড়ে ৯৬৬টি স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। শুধু ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধ্বংস করা হয়েছে ১ হাজার ২৮৮টি ফিলিস্তিনি স্থাপনা।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ খালেদ সাফি বলেন, স্যাটেলাইটে এআই যুক্ত হওয়ায় ছবি ধারণের পরই পরিবর্তন ও গুরুত্বপূর্ণ বস্তু শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। তার মতে, মানুষের সরাসরি তদারকি ছাড়া এ ধরনের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের দায় অ্যালগরিদম বা প্রতিষ্ঠানের ওপর ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩-২০২৫ সময়ে ইসরাইল ৪০ হাজারের বেশি বসতি স্থাপনকারী আবাসন ইউনিটের পরিকল্পনা এগিয়ে নেয় এবং ১৮৫টি নতুন আউটপোস্ট স্থাপন করে। একই সময়ে পশ্চিম তীরে ১১৮টি ফিলিস্তিনি পশুপালক সম্প্রদায় উচ্ছেদ হয়েছে। ওসিএইচএ ও পিস নাউয়ের তথ্য অনুযায়ী, অধিকৃত ভূখণ্ডে বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী রয়েছেন।

খালেদ সাফির মতে, পশ্চিম তীরে ইমিসাইটের ব্যবহার শুধু নজরদারি ও উচ্ছেদের জন্য নয়; এসব প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের মাধ্যমে উন্নত করে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির সুযোগও তৈরি করছে।

সূত্র: আলজাজিরা

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: