প্রথা ভেঙে ছুটলেন বিমানবন্দরে, শি কে রাজসিক অভ্যর্থনা! কী পেতে মরিয়া ট্রাম্প?
দশ বছরেরও বেশি সময় পর ওয়াশিংটনে পা রেখেছেন পরাশক্তি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এ সফরের শুরুতেই নজর কেড়েছে এমন এক কূটনৈতিক দৃশ্য, যা সাম্প্রতিক মার্কিন ইতিহাসে বিরল। প্রথা ভেঙে হোয়াইট হাউসের বদলে মেরিল্যান্ড স্টেইটের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজে ছুটে গিয়ে গিয়ে শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিউয়ানকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামরিক ব্যান্ডবাদন, কামান গোলার স্যালুট, লালগালিচা সম্বর্ধনা, আকাশে বি-ওয়ান বোমারু বিমানের উড্ডয়ন মিলিয়ে চীনা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন ও জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা। সব মিলিয়ে শিকে ট্রাম্পের এই রাজকীয় অভ্যর্থনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টদের জন্য কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে বিমানবন্দরে গিয়ে স্বাগত জানানো প্রচলিত রীতি নয়। ফলে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে শুধু আনুষ্ঠানিক সৌজন্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে না; বরং এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্ক স্থিতিশীল করার একটি রাজনৈতিক বার্তাও দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ান ও ইরান নিয়ে গভীর মতপার্থক্য থাকলেও উভয় পক্ষই আপাতত সংঘাত আরও বাড়ানোর বদলে সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রিত রাখার চেষ্টা করছে বলে অভিমত তাদের।
কী ফল আসতে পারে বহুল আকাঙ্ক্ষিত এই সফর থেকে? সব মহলেই চলছে সেই আলোচনা। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র ও বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রত্যাশা হবে বাণিজ্য সাফল্য। শি ওয়াশিংটনে পৌঁছানোর দিনই ঘোষণা এসেছে, দুই দেশের সাময়িক বাণিজ্যযুদ্ধ বিরতির মেয়াদ বাড়ানোর খবর। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এই বাড়তি সময়কে কাজে লাগিয়ে ওয়াশিংটন আরও বড় একটি বাণিজ্য সমঝোতার চেষ্টা করতে চায়। বিরল খনিজ, শুল্ক এবং চীনা পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার, এসব ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রহ স্পষ্ট।
তবে ট্রাম্পের হিসাব শুধু অর্থনীতি ঘিরে নয়। এই মুহূর্তে তার সামনে সবচেয়ে জটিল প্রশ্ন ক্রমশ দীর্ঘ হতে থাকা জটিল ইরান যুদ্ধ। চীন ইরানের বড় জ্বালানি ক্রেতা এবং তেহরানের সঙ্গে বেইজিংয়ের গভীর অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ন্ত্রণে চীনের প্রভাব কাজে লাগাতে চাইতে পারে ওয়াশিংটন। বিশেষ করে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনা, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অস্থিরতা ঠেকাতে চীনের সহযোগিতা ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগে বেইজিং বড় ধরনের ভূমিকা নেবে, এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। কারণ, ইরান ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিপরীতমুখী। একইভাবে তাইওয়ান ইস্যু এবং উন্নত প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিষয়েও রয়েছে দুই দেশের মৌলিক বিরোধ। শি জিনপিং বৈঠকে তাইওয়ান ও এক চীন ইস্যুতে বেইজিংয়ের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারেন। বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসন উন্নত প্রযুক্তি ও এআই চিপের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অবস্থানে থাকতে পারে।
বিভি/এইচজে













মন্তব্য করুন: