নিজের অজান্তেই ‘কোটিপতি’ ভাঙারি কুড়ানো বৃদ্ধ!
৭১ বছর বয়সী বৃদ্ধ, একসময় ছিলেন সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মী। টানা ৩০ বছর চাকরি করেছেন। কিন্তু চাকরি হারানোর পর বদলে যায় পুরো জীবন। ক্ষতিপূরণের টাকা শেষ, মাথায় ঋণ, পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব—শেষ পর্যন্ত শহর ছাড়তে বাধ্য হন। শুরু হয় ভাঙারি কুড়িয়ে জীবন চালানোর সংগ্রাম। আর সেখানেই বদলে যায় জীবনের গল্প।
প্রায় ২১ বছর এভাবেই কেটে যায়। দিনভর রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ভাঙারি সংগ্রহ, আর রাত কাটত কখনো পরিত্যক্ত ভবনে, কখনো খোলা আকাশের নিচে। আত্মসম্মানবোধ প্রবল হওয়ায় শুরুতে আশ্রয়কেন্দ্রেও যেতে চাননি তিনি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পুরো শহর তন্ন তন্ন করে তাকে খুঁজতে থাকেন একটি সামাজিক সহায়তা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা।
পরে ২০২৪ সালে চীনের হুনান প্রদেশের কর্মকর্তারা পরিত্যক্ত একটি ভবন থেকে বৃদ্ধ রু-কে খুঁজে পান। আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে তথ্য যাচাই করার পর একটি পেনশন অ্যাকাউন্টের ব্যাংক কার্ড হাতে দিয়ে রুকে জানানো হয়, তিনি দীর্ঘদিনের সেই কর্মস্থল থেকে পেয়েছেন ৪ লাখ ২৪ হাজার ২০৪ ইউয়ান। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭৭ লাখ টাকারও বেশি!
দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ তার একাউন্টে ঢুকলেও কিছুই জানতেন না রু। চাকরি হারানোর পর রু ধরে নিয়েছিলেন, তাঁর আর পেনশন পাওয়ার সুযোগ নেই। মোবাইল ফোন না থাকায় নতুন নিয়ম কিংবা নিজের অ্যাকাউন্টের কোনো তথ্যও জানতে পারেননি। ২১ বছর ভাঙারি কুড়িয়ে জীবন কাটানো সেই বৃদ্ধের ব্যাংকে জমা এত টাকা কর্মকর্তাদের সততা ও মহানুভবতায় ফেরত পেয়ে বিষ্মিত হন রু।
বিভি/টিটি













মন্তব্য করুন: