• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

ইরান যুদ্ধে ভেঙে পড়ছে মার্কিন আকাশশক্তি? ৮১ বিমান-ড্রোন-হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত!

প্রকাশিত: ১৭:১০, ৮ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৭:১১, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ইরান যুদ্ধে ভেঙে পড়ছে মার্কিন আকাশশক্তি? ৮১ বিমান-ড্রোন-হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত!

ইরানকে দ্রুত পরাস্ত করার লক্ষ্যেই যুদ্ধ শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সময় যতোই গড়িয়েছে ফল এসেছে উল্টো। ইরানকে কাবু করার লক্ষ্য তো পূরণ হয়ইনি, উল্টো মার্কিন সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাহাড় সমান। 

মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুসারে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক বিমান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে তাদের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের বিশেষ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধে ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক আকাশযানের দীর্ঘ তালিকায় রয়েছে- ১২টি এফ–১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান, একটি এফ–৩৫এ লাইটনিং–২ স্টেলথ যুদ্ধবিমান, দুটি এ–১০ ওয়ার্থগ অ্যাটাক জেট, সাতটি কেসি–১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, একটি ই–৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান, দুটি এমসি–১৩০জে কমান্ডো–২ বিশেষ অভিযানবিষয়ক বিমান, একটি এইচএইচ–৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন–২ কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ হেলিকপ্টার, একটি এমকিউ–৪সি ট্রাইটন উচ্চ উচ্চতায় দীর্ঘসময় উড্ডয়নক্ষম ড্রোন, তিনটি এমকিউ–১ বহুমুখী ড্রোন, একটি এএইচ–৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, চারটি এএইচ–৬ লিটল বার্ড হালকা আক্রমণকারী হেলিকপ্টার এবং একটি এমএইচ–৬০ সি হক সামুদ্রিক হেলিকপ্টার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বড় ধাক্কাগুলোর একটি এসেছে এফ-১৫ই বহরে। ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে নিজেদের বাহিনীর ভুল হামলায় তিনটি এফ-১৫ ধ্বংস হয়। পরের মাসে ইরানের আকাশে আরও একটি এফ-১৫ ভূপাতিত হয়। আবার সেপ্টেম্বরের ৯ ও ১০ তারিখ জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরও আটটি এফ-১৫ই। 

১৯ মার্চ ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫এ। প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি মূল্য এটির। তালিকায় রয়েছে প্রায় ২৭ কোটি ডলার মূল্যের একটি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমানও। বোয়িং ৭০৭-এর কাঠামোর ওপর তৈরি এই বিমান আকাশপথে নজরদারি, নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক অভিযানের সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে এমন একটি বিমান হারানো শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র হারিয়েছে কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার, এমসি-১৩০জে বিশেষ অভিযানবিষয়ক বিমান, এইচএইচ-৬০ডব্লিউ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ও এমকিউ-১ ড্রোনসহ আরও বহু আকাশযান। সরাসরি যুদ্ধের সময় এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি, এএইচ-৬ লিটল বার্ড এবং এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টারও ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

আরও বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের ক্ষতি। প্রতিবেদনের হিসাবে, অন্তত ৪৫টি রিপার ধ্বংস হয়েছে। প্রতিটির আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ডলার। নজরদারি থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে ব্যবহৃত এই ড্রোনগুলোর ক্ষতির ফলে মার্কিন বিমানবাহিনীর হাতে মোতায়েনযোগ্য রিপারের সংখ্যা ১৩৫-এ নেমে এসেছে। অথচ এয়ারফোর্স টাইমসের মতে, মার্কিন বিমানবাহিনীর কাছে যে কোনো সময় অন্তত ১৮৯টি মোতায়েনযোগ্য রিপার ড্রোন মজুদ রাখার কথা।

এদিকে কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস আরো জানিয়েছে, সামরিক অভিযান, গোপনীয় তথ্য এবং কিছু ঘটনার দায়ভার নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত আকাশযানের সংখ্যা ভবিষ্যতে পরিবর্তিতও হতে পারে।

সব মিলিয়ে ইরানকে চাপে ফেলার অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপর যে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে, ৮১টি আকাশযানের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তারই বড় ইঙ্গিত। যটই দিন গড়াচ্ছে যুদ্ধের আর্থিক ব্যয়ও বাড়ছে। ফলে বলা হচ্ছে, ইরানকে দ্রুত কাবু করার যে হিসাব নিয়ে অভিযান শুরু হয়েছিল, দীর্ঘ সংঘাতের বাস্তবতায় তা এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। 

বিভি/এইচজে

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত