• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভে বাধা নয়, পুলিশের ওপর নজর রাখবে হাইকোর্ট

প্রকাশিত: ১৮:৩২, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভে বাধা নয়, পুলিশের ওপর নজর রাখবে হাইকোর্ট

নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ভারতের দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ সমাবেশ বন্ধের আবেদন নাকচ করেছেন দিল্লি হাইকোর্ট। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সমাবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনের আওতায় সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিতিন বাসুদেও সামব্রে ও বিচারপতি সঞ্জয় শর্মার বেঞ্চ এ বিষয়ে শুনানি করেন। একজন লাইসেন্সধারী হকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন। ওই হকারের দাবি, বিক্ষোভের কারণে ব্যবসায়ী ও বিক্রেতাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে। তাই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সমাবেশ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের প্রতি নির্দেশনা চেয়েছিলেন তিনি।

আবেদনকারীর আইনজীবী বলেন, উৎসবের মৌসুমে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় আরেকটি সপ্তাহান্তে দোকানপাট বন্ধ থাকলে ব্যবসায়ী ও হকারদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কের মতো জায়গায় বিক্ষোভের আয়োজন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে এলাকা বন্ধ করা শুরু হয়েছে। দশেরা উৎসবের সপ্তাহান্তে এ বিক্ষোভ বন্ধ করা প্রয়োজন।

কর্তৃপক্ষের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা আদালতকে জানান, সিজেপির কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর নির্বাচনে কথিত কারচুপির অভিযোগে কনট প্লেসের কাছে যন্তর মন্তর সড়কে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। ওই কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়া শত শত মানুষকে আটক করে পুলিশ। এরপর শুক্রবার নতুন করে বিক্ষোভের আয়োজন করেছে দলটি।

একই ইস্যুতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ও বিক্ষোভ করছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দুই পক্ষের পৃথক কর্মসূচি ক্রমেই কাছাকাছি আসছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইন্ডিয়া জোট থেকে অনেকটা দূরে থাকা আম আদমি পার্টিও (আপ) সিজেপির বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় পতাকা নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দীপক অভিযোগ করেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে দিল্লির শিক্ষার্থী ও তরুণদের রাস্তায় থেকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়া বিরোধী নেতাদেরও আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব পদক্ষেপের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘সুরক্ষা দেওয়ার’ প্রচেষ্টার যোগসূত্র রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন দীপক।

তিনি জানান, সিজেপির সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনায় কারাগারে রয়েছেন। ওই স্থানকে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত এলাকা থেকে বাদ দেওয়ার পর সেখানে প্রবেশের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

দীপক বলেন, গত ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে দিল্লির শিক্ষার্থী সংগঠন ও তরুণেরা বিক্ষোভ করছেন। বিরোধী নেতারা যোগ দেওয়ার পর তাঁদেরও আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও পিনারাই বিজয়নও রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) কর্মী নেহা বোরার অভিযোগ, বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকেরা মারধর ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। প্রেস কার্ড থাকা সত্ত্বেও তাঁদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটক রাখা হয়েছে এবং তাঁদের ক্যামেরাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, বৃহস্পতিবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও দুই নির্বাচন কমিশনারের কাছে জবাব চেয়ে নোটিশ দিয়েছেন। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও ইন্ডিয়া জোটের অন্য নেতারা এসব আবেদন করেছেন।

এর আগে ১২ অক্টোবর বারাখাম্বা রোড থেকে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর পর্যন্ত ইন্ডিয়া জোটের মিছিলের প্রসঙ্গ উঠলে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘কেউ বিচার বিভাগকে ভয় দেখিয়ে প্রভাবিত করতে পারে না।’

ওই মিছিলের বিরুদ্ধে করা পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদবসহ অন্যদের প্রতিও নোটিশ জারি করেছেন আদালত। পাশাপাশি বিক্ষোভের সময় সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: