• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ট্রাম্পের সমর্থনে দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে মায়ামি পৌঁছেছেন বলসোনারো!

প্রকাশিত: ২০:৪৯, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২০:৫০, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ট্রাম্পের সমর্থনে দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে মায়ামি পৌঁছেছেন বলসোনারো!

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে পৌঁছেছেন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো ও তার পরিবারের সদস্যরা। ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ অমান্য করার পর যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের প্রবেশের ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ঘটনায় ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রবিবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থি বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন ফ্লাভিও বলসোনারো। অর্থপাচারের একটি তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলায় ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে কোনো অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি। আদালতের নির্দেশের পর গোপনে ব্রাজিল ছাড়েন ফ্লাভিও।

রয়টার্স টেলিভিশনের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ফ্লাভিও বলসোনারো, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে একটি গালফস্ট্রিম জি৪০০ উড়োজাহাজ থেকে নেমে মায়ামি-ওপা-লক্কা এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে তাদের এই যাত্রা লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আর্জেন্টিনার অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে তারা আর্জেন্টিনার উত্তরাঞ্চলে প্রবেশ করেন। পরে একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে ইকুয়েডরের শহর গুয়ায়াকিলে যান। সেখান থেকে মায়ামির উদ্দেশে রওনা হন তারা।

এ বিষয়ে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়, ইকুয়েডরের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং ব্যক্তিগত উড়োজাহাজটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বায়রেস ফ্লাইয়ের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা সাড়া দেয়নি।

ফ্লাভিও বলসোনারোর ব্রাজিল ত্যাগের ঘটনায় আমেরিকা মহাদেশের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে নতুন করে দূরত্ব তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

লুলা অভিযোগ করেছেন, বলসোনারো পরিবারকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করেছে। রবিবারের নির্বাচনের আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বলসোনারো পরিবারকে আবার ক্ষমতায় ফেরাতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ফ্লাভিও বলসোনারোকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে তার সমর্থন রয়েছে। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, বলসোনারো ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রবেশের ভিসা দেওয়া হবে।

ফ্লাভিওর বাবা ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে বিচারিক হয়রানির শিকার বলে আগেও অভিযোগ করেছিলেন ট্রাম্প।

২০২২ সালে লুলার কাছে নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন জইর বলসোনারো। পরে তিনি ব্রাজিলে ফিরে আসেন। দেশটির রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় সমর্থকদের সরকারি ভবনে হামলার ঘটনার পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে তাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রবিবারের নির্বাচনে ফ্লাভিও বলসোনারোকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে ব্যাপকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তার পরাজয় ছিল অপ্রত্যাশিত।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে সিনেটর হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হলে বিচার থেকে দায়মুক্তির সুযোগও হারাবেন তিনি। অথচ পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ পাওয়ার পর সোমবার ফ্লাভিও বলেছিলেন, দেশ ছেড়ে পালানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

তিনি বলেছিলেন, ‘দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা আমি কখনো ভাবিনি। আমি আমার পাসপোর্ট জমা দেব এবং এই প্রহসনের বিরুদ্ধে নিজেকে রক্ষা করব। এটি আমাকে ভয় দেখানোর একটি স্পষ্ট চেষ্টা।’

তবে আদালতের নির্দেশের পর ব্রাজিল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে তার পৌঁছানোর ঘটনা দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত