• মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১ | ১৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৮

BVNEWS24 || বিভিনিউজ২৪

আরিয়ানকে গ্রেফতারকারী সমীর চাকরির জন্য ইসলাম ছেড়ে হিন্দু হয়েছিলেন: নবাব

প্রকাশিত: ১৯:৪২, ২৭ অক্টোবর ২০২১

আপডেট: ২১:১৯, ২৭ অক্টোবর ২০২১

ফন্ট সাইজ
আরিয়ানকে গ্রেফতারকারী সমীর চাকরির জন্য ইসলাম ছেড়ে হিন্দু হয়েছিলেন: নবাব

শাহরুখ খান-এর ছেলে আরিয়ান খানকে মাদককাণ্ডে গ্রেফতার করা এনসিবি কর্মকর্তা সমীর ওয়াংখেড়ে চাকরির জন্য নিজের ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মাদক মামলায় আরিয়ান খান-এর গ্রেফতারির পর থেকে নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর এই কর্মকর্তাকে বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠতে থাকে। মহারাষ্ট্রের উন্নয়নমন্ত্রী নবাব মালিক তাকে একাধিক বার নিশানা বানিয়েছেন। এবার তিনি প্রকাশ করলেন সমীর-এর বিয়ের ছবি।

নবাব মালিকের অভিযোগ, ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিসে চাকরি পাওয়ার জন্য তথ্যগত ‘দুর্নীতি’র আশ্রয় নিয়েছেন সমীর।

বুধবার সকালে টুইটারে সমীরের বিয়ের ছবি প্রকাশ করেন মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী এবং ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) নেতা নবাব। এর ক্যাপশনে তিনি কিছুটা ব্যঙ্গের সুরে লেখেন, এক মিষ্টি দম্পতির ছবি। সমীর দাউদ ওয়াংখেড়ে এবং চিকিৎসক শাবানা কুরেশি।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে এনসিবি কর্তা সমীর ২০০৬ সালের ওই ছবিতে একজন অল্পবয়সী যুবক। বিয়ের দিন প্রথম স্ত্রী শাবানাকে নিয়ে ছবিটি তুলিয়েছিলেন তিনি। ওই ছবি এবং তার পরে সমীর-এর মুসলিম মতে বিয়ের শংসাপত্র বা নিকাহনামা প্রকাশ করে নবাব জানিয়েছেন, সমীরের ধর্ম নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। তিনি শুধু চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে চান সমীর একজন অসৎ ব্যক্তি। যিনি চাকরির প্রয়োজনে খাতায় কলমে নিজের ধর্ম কিংবা জাতি বদলে ফেলতেও দ্বিধাবোধ করেননি।

এর আগে সমীরের বিরুদ্ধে তদন্তে অনিয়ম, নির্দোষ ব্যক্তিকে অকারণে হেনস্তা করার মতো অভিযোগ তোলেন নবাব। তার দাবি, আরিয়ান খানকে ফাঁসানো হয়েছে। মঙ্গলবার সমীর-এর বিরুদ্ধে ২৬টি অনিয়মের বিবরণ দেওয়া একটি চিঠি টুইটারে প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তার আগে সোমবার নবাব বলেছিলেন, মুসলিম হয়েও স্রেফ চাকরি পাওয়ার জন্য জাত-পাতের ভুয়া শংসাপত্র দাখিল করেছিলেন সমীর। সেখানে নিজেকে প্রান্তিক হিন্দু বলে দাবি করেছিলেন। প্রান্তিক জাতির কোটা সুবিধা নিয়েই ভারতীয় গোয়েন্দা বিভাগে চাকরি নিয়েছিলেন এনসিবি কর্তা।

নবাব বলেছিলেন, এনসিবির রেকর্ডে সমীরের বাবার নাম জ্ঞানদেব ওয়াংখেড়ে লেখা থাকলেও তাঁর আসল নাম দাউদ। তখন অবশ্য নবাব-এর দাবি অস্বীকার করেছিলেন সমীর-এর বাবা। তবে বুধবার সকালে ছবিটি প্রকাশ করার পর তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

বুধবার নবাব এ-ও বলেন যে, ২০০৬ সালের ৭ ডিসেম্বর সমীর এবং শাবানা’র বিয়েতে দ্বিতীয় সাক্ষী ছিলেন তাঁর বোন ইয়াসমিন-এর স্বামী আজিজ খান।

এদিকে আরিয়ান খানকে গ্রেফতার ইস্যুতে সমীরের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকার একটি ঘুষ কেলঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে। মুম্বাইয়ের মাদক মামলার অন্যতম সাক্ষী প্রভাকর সইল একটি হলফনামা প্রকাশ করে সোমবার জানিয়েছেন, আরিয়ানকে মুক্তি দেওয়ার জন্য শাহরুখ খান-এর ম্যানেজার এবং বেসরকারি গোয়েন্দা কিরণ গোসাভি’র মধ্যে কোনও চুক্তি হয়েছিলো। যে বিষয়ে গোসাভি’র কথোপকথনে তিনি স্পষ্ট শুনেছিলেন সমীরের নাম। মুম্বাইয়ের জোনাল অফিসার সমীর ওয়াংখেড়েকে আট কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলেন গোসাভি। প্রভাকর জানিয়েছিলেন, এই অভিযোগের প্রমাণও আছে তাঁর কাছে। যা তিনি প্রকাশ্যে আনবেন গোসাভি আত্মসমর্পণ করার পরই। প্রভাকরের ওই অভিযোগের পরই সমীর-এর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে এনসিবি।

বিভি/এমএস

মন্তব্য করুন: