ঈদবাজারে আভিজাত্যের ছোঁয়া
ঈদবাজারে ৫ লাখ টাকার পাঞ্জাবি !
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার অভিজাত বিপণিবিতানগুলোতে জমে উঠেছে পাঞ্জাবির বেচাকেনা। ক্রেতাদের ভিড় যেমন বাড়ছে, তেমনি দামের দিক থেকেও তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। বিশেষ করে বনানীর বুটিক ব্র্যান্ড ‘হাউস অব আহমেদ’-এর পাঞ্জাবি এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এখানে পাঞ্জাবির দাম শুরু হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার টাকা থেকে, যা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।
বনানীর ১২ নম্বর সড়কের সিবিএল ডেলভিস্টা ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলায় অবস্থিত এই শোরুমে প্রদর্শিত বেশিরভাগ পাঞ্জাবিই তৈরি হয়েছে উন্নত মানের কাপড়ের ওপর জারদোসি ও সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারির কাজ দিয়ে। প্রতিটি পোশাক তৈরি করতে সময় লাগে কয়েক মাস থেকে শুরু করে কখনো কখনো এক বছর পর্যন্ত। ফলে এসব বিশেষ ডিজাইনের পাঞ্জাবি কিনতে আগ্রহীদের আগেভাগেই অর্ডার দিতে হয়।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ডিজাইনার আহমেদ তুহিন রেজা জানান, দক্ষ কারিগরদের হাতে দীর্ঘ সময় নিয়ে তৈরি হওয়ায় এসব পোশাকের উৎপাদন ব্যয় বেশি। তিনি বলেন, আভিজাত্যপূর্ণ ও রুচিশীল ডিজাইনের মাধ্যমে দেশের ফ্যাশনধারায় নতুন মাত্রা যোগ করাই তাদের লক্ষ্য। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী এসব পাঞ্জাবিকে শেরওয়ানিতেও রূপান্তর করা যায়, তবে এতে খরচ আরও বাড়ে।
বিক্রির বিষয়ে তিনি জানান, তাদের নির্দিষ্ট একটি ক্রেতাশ্রেণি রয়েছে, যারা নিয়মিতই এই ব্র্যান্ডের পোশাক কেনেন। এ বছর নতুন সংযোজন হিসেবে আনা হয়েছে জামদানি পাঞ্জাবি, যা ক্রেতাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।
একই ভবনের ‘জুরহেইম’ নামের আরেকটি দোকানেও পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে লাখ টাকার পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে। এখানে পুরোনো কিছু সংগ্রহে বিশেষ ছাড়ও দেওয়া হচ্ছে। দোকান কর্তৃপক্ষের মতে, হাতের সূক্ষ্ম কাজ, আরামদায়ক কাপড় এবং সীমিত সংস্করণের ডিজাইন—এই তিন বিষয়েই তারা গুরুত্ব দিচ্ছে।
বনানীর আশপাশে ‘হাউস অব আহমেদ’ ছাড়াও রয়েছে আড়ং, ইনফিনিটি, ভাসাভি, মান্যবরসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুম। এসব প্রতিষ্ঠানে দুই হাজার টাকা থেকে শুরু করে অর্ধলক্ষ টাকার পাঞ্জাবিও পাওয়া যাচ্ছে।
বেসরকারি চাকরিজীবী ফজলুল কবীর পাঞ্জাবি কিনতে এসে বলেন, উপহার দেওয়ার জন্য ভালো মানের পোশাক খুঁজছেন তিনি। তবে পছন্দ ও দামের সমন্বয় খুঁজে পেতে কিছুটা সময় লাগছে।
শুধু বনানী নয়, গুলশানসহ ঢাকার অন্যান্য অভিজাত শপিং মল—যেমন যমুনা ফিউচার পার্ক ও বসুন্ধরা সিটি—এও বিভিন্ন দামের পাঞ্জাবির সমাহার দেখা যাচ্ছে। ঈদ ঘিরে এসব মার্কেটে ক্রেতাদের উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে, আর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ফ্যাশন সচেতনতার বহিঃপ্রকাশও।



মন্তব্য করুন: