বাড়ছে পুরুষের প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি, বুঝবেন যেসব লক্ষণে
শরীরে নীরবে বেড়ে চলেছে ক্যান্সার, অথচ কোনো লক্ষণ নেই। একপর্যায়ে তা ছড়িয়ে পড়ছে মেরুদণ্ড, পাঁজর কিংবা খুলির হাড়ে। দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়ার এমন ঘটনা ঘটছে প্রোস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে। প্রতি ১০ জনে প্রায় একজন এই ক্যান্সারের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
একজন পুরুষের কোনো লক্ষণ প্রকাশ ছাড়াই প্রায় দুই দশক ধরে প্রোস্টেট ক্যান্সার শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। বর্তমানে এটি পরীক্ষা করার আলাদা কোনো পদ্ধতি নেই। চিকিৎসকরা মূলত বায়োপসি ও পিএসএ টেস্টের সমন্বয়ে এটি নির্ণয় করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রোস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সময়মতো রোগ শনাক্ত করাই বড় বিষয়। দেরি হলে চিকিৎসা জটিল হয়ে যেতে পারে; আর শুরুতেই শনাক্ত করা গেলে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময়ের সুযোগ অনেক বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, পুরুষদের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যান্সার অন্যতম প্রধান ক্যান্সার। এর উদ্বেগের বিষয় হলো, শুরুর দিকে অনেক সময় নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ থাকে না।
বিশেষ করে ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষরা প্রস্রাবের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে এলে প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে -
- ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
- বারবার বাথরুমে যাওয়া
- প্রস্রাবের সময় অস্বস্তি লাগা
- ধীরে ধীরে প্রস্রাব হওয়া
- প্রস্রাবের বেগ থাকলেও প্রস্রাব না হওয়া ইত্যাদি।
মূলত বয়স আর বংশগতিই প্রোস্টেট ক্যান্সারের প্রধান কারণ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অতিরিক্ত ওজন, ডায়েট কিংবা অনিয়মিত ব্যায়াম এই ক্যান্সারের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ ডায়েট যেমন প্রোস্টেট ক্যান্সারের মাত্রা বাড়াতে পারে; তেমনি নিয়মিত শরীরচর্চা এর ঝুঁকি কমাতে পারে!
তাই প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। তবে কয়েকটি খাবার আছে যেগুলো নিয়মিত খেলে পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যান্সার হওয়া ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। জেনে নিন তেমনই ৭টি খাবার সম্পর্কে-
>> টমেটো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় যেকোনো ধরনের ক্যান্সার বা টিউমারের ঝুঁকি কমায়।
>> আমেরিকার পুষ্টি বিভাগের গবেষণায় দেখা গেছে, যতো বেশি মাছ খাওয়া যায়; প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি ততই কমতে থাকে।
>> গ্রিন টি’তে বিদ্যমান জ্যান্থেইন, এপিক্যাটেচিন, ক্যাটেচিন ও এপিগ্যালাকোচিন প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
>> ব্রোকলির স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেক। এই সবজিতে প্রাপ্ত সালফোরেফেন প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি ও প্রভাব দু’টোই কমাতে কার্যকরী।
>> মাশরুমের হাজারো স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে। বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদানে ভরপুর থাকে মাশরুম। নিয়মিত মাশরুম খেলে টিউমারের বিটা গ্লুকোন কমে যায়।
>> ডালিমের মধ্যে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ইলাজিটানিন থাকে, যা ক্যান্সার ও প্রোস্টেট ক্যান্সার কমাতে কার্যকরী।
>> গোলমরিচে বিদ্যমান ক্যাপাসাইসিন ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস করতে সাহায্য করে।
বিএইউএসের সায়েন্টিফিক পার্টের সদস্য ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. নাছির উদ্দিন কাজল বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে প্রোস্টেট ক্যান্সারের নিরাময়মূলক চিকিৎসা সম্ভব। স্ক্রিনিংয়ে মূলত পিএসএ ও শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। সন্দেহ থাকলে এমআরআই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বায়োপসি করা হয়।
তিনি বলেন, ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের স্ক্রিনিংয়ের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর যাদের নিকটাত্মীয়ের প্রোস্টেট ক্যান্সারের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়স থেকেই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আসা প্রয়োজন।
বিভি/টিটি













মন্তব্য করুন: