টিআইবির বিস্ফোরক তথ্য!
ছবি: টিআইবির সংবাদ সম্মেলন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থা ও রাজনৈতিক প্রবণতা নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগের পাঁচটি নির্বাচনের তুলনায় এবার ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে বড় ধরনের ঋণের ভারে রয়েছেন বহু প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থীর ৩৬ শতাংশের বেশি ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব করছেন—যা বিগত পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সংবাদ সম্মেলনে মূল গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির কমিউনিকেশন ও আউটরিচ বিভাগের পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম।
টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল। চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৮১ জন। এর মধ্যে ২৪৯ জন বা প্রায় ১৩ শতাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী। বাকি ১ হাজার ৭৩২ জন বিভিন্ন দলের প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আর্থিক অবস্থার দিক থেকে দেখা গেছে, মোট প্রার্থীর সাড়ে ২৫ শতাংশের কোনো না কোনো ধরনের ঋণ বা দায় রয়েছে। সব প্রার্থীর সম্মিলিত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৮৬৮ দশমিক ৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকঋণের অংশই সবচেয়ে বড়—১৭ হাজার ৪৭১ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা।
যদিও আগের পাঁচ নির্বাচনের তুলনায় এবার ঋণগ্রস্ত প্রার্থীর হার তুলনামূলক কম, তবে মোট ঋণের পরিমাণই সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে টিআইবি।
দলভিত্তিক হিসাবে ঋণগ্রস্ত প্রার্থীর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বিএনপি। দলটির মোট প্রার্থীর ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশই ঋণগ্রস্ত। দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা—৩২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আর জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে এই হার ২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে নির্ধারিত ৫ শতাংশ কোটা কোনো দলই পূরণ করতে পারেনি।
পেশাগত পরিচয়ের দিক থেকেও নির্বাচনী মাঠে ব্যবসায়ীদের দাপট স্পষ্ট। মোট প্রার্থীর ৪৮ শতাংশের বেশি নিজেদের মূল পেশা হিসেবে ব্যবসাকে উল্লেখ করেছেন। আইনজীবী ও শিক্ষক পেশা উল্লেখ করেছেন যথাক্রমে ১২ দশমিক ৬১ ও ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী। রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন মাত্র ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
সম্পদের হিসাবে, অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য বিবেচনায় কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ৮৯১ জন। এর মধ্যে ২৭ জনের সম্পদের পরিমাণ শত কোটি টাকারও বেশি। পাশাপাশি, বর্তমানে মামলা রয়েছে এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৫৩০ জন—যা মোট প্রার্থীর ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অতীতে মামলা ছিল ৭৪০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে।
নির্বাচনী ব্যয়ের চিত্রেও বড় অঙ্কের অর্থের উপস্থিতি দেখা গেছে। টিআইবির তথ্যে বলা হয়েছে, সব দলের প্রার্থীদের ঘোষিত মোট নির্বাচনী ব্যয় ৪৬৩ দশমিক ৭ কোটি টাকা। গড়ে প্রতিজন প্রার্থী ব্যয় করছেন প্রায় সাড়ে ২২ লাখ টাকা। সর্বোচ্চ ব্যয় ঘোষণা করেছে বিএনপি—১১৯ দশমিক ৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ—৮০ দশমিক ৬ কোটি টাকা।
এ ছাড়া প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২৫৯ জন প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী-স্ত্রী বা নির্ভরশীলদের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ বেশি। একইভাবে, ১১৮ জন প্রার্থীর ক্ষেত্রে তাদের নির্ভরশীলদের দালান বা ফ্ল্যাট সংখ্যা বেশি এবং ১৬৪ জন প্রার্থীর ক্ষেত্রে নির্ভরশীলদের জমির পরিমাণ বেশি।
বিভি/এমআর



মন্তব্য করুন: