• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সবাইকে নিয়ে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার তারেক রহমানের

প্রকাশিত: ২২:২১, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
সবাইকে নিয়ে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার তারেক রহমানের

দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ মুসলমান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ বাক্যটি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে একটি তাবেদার সরকার সেই বাক্যটি সংবিধান থেকে বাদ দেয়। আল্লাহর রহমতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ওই বাক্যটি পুনরায় সংবিধানে সংযোজন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক আগ্রাসনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশবরেণ্য বহু আলেম-ওলামা সতর্ক করে বলেছেন, কেউ কেউ কেবল দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মের অপব্যাখ্যা করে বিশ্বাসী মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাই সকল বিশ্বাসীর প্রতি আহ্বান—এ ধরনের অপচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী—পাহাড় কিংবা সমতলের প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ থাকবে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনে কেউ কার ধর্ম কী—সে প্রশ্ন ওঠেনি। আমরা বিশ্বাস করি, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও রীতি অনুযায়ী ধর্ম পালন করবেন—এটাই একটি আধুনিক ও সভ্য রাষ্ট্রের নীতি। সকল নাগরিকের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের ৫৫ বছরের ইতিহাস প্রমাণ করে—গণতন্ত্রকামী জনগণ কখনোই স্বৈরাচার, ধর্মীয় উগ্রবাদ কিংবা চরমপন্থাকে গ্রহণ করে না। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ছিল—দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশ আমাদের সবার; আমরা সবাই বাংলাদেশি।

গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ—উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু পতিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট চক্র জনগণের কাছ থেকে সেই মালিকানা ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে আজ জনগণের কাছে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বহুল আকাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচন।

তিনি বলেন, বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দল ও জনগণকে দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করতে হয়েছে। এই ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন ও অপহরণের শিকার হয়েছেন। ‘আয়নাঘর’ নামের বর্বর বন্দিশালা হয়ে উঠেছিল জীবন্ত কবর। শুধু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেই শহীদ হয়েছেন ১৪ শতাধিক মানুষ, আহত হয়েছেন অন্তত তিন হাজার। শহীদদের মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহত ও শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ প্রায় ২০ কোটি মানুষের দেশ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জনশক্তির অর্ধেকের বেশি নারী, চার কোটির বেশি তরুণ, পাঁচ কোটির বেশি শিশু এবং ৪০ লাখের বেশি প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়বে। নাগরিকদের শক্তিশালী না করে রাষ্ট্র শক্তিশালী হয় না। জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণ টেকসই হবে না। এ কারণেই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন জনগণের হারানো রাজনৈতিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের একটি বড় সুযোগ।

বেকারত্ব নিরসনে অর্থনৈতিক খাতের সংস্কার, অঞ্চলভিত্তিক অর্থনীতি চাঙ্গা করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা হবে। কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনামূল্যে স্কিল ডেভেলপমেন্ট, ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তিনি জানান, সাইবার নিরাপত্তা, ডাটা প্রসেসিং, এআই, সেমিকন্ডাক্টরসহ আইটি খাতে নতুন শিল্প গড়ে তোলা হবে। এসব খাতে প্রতিবছর সরাসরি দুই লাখ ও পরোক্ষভাবে আট লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

বর্তমানে দেশে ২৭ লাখের বেশি বেকার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যে প্রায় নয় লাখ উচ্চশিক্ষিত। ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী এই তরুণদের জন্য বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত বা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ ভাতা দেওয়া হবে।

নারী ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যা নারীর নামে ইস্যু করা হবে। প্রথম পর্যায়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারকে মাসে আড়াই হাজার টাকা বা সমমূল্যের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।

নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন, ডে-কেয়ার, ব্রেস্টফিডিং কর্নার, হাইজিনিক বাথরুম নির্মাণ এবং নারী নির্যাতন ও সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

কৃষি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, কৃষকের স্বার্থ রক্ষা মানেই দেশের স্বার্থ রক্ষা। এজন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালু করা হবে। কৃষকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রতিবছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার বন্ধ করা গেলে ফ্যামিলি কার্ড, বেকার ভাতা বাস্তবায়ন সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা—যা বিএনপির রয়েছে।

প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’, সরকারি কর্মচারীদের জন্য সময়মতো পে-স্কেল ঘোষণা, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী প্রদানের কথাও জানান তিনি।

শেষে তারেক রহমান বলেন, অতীতে বিএনপির শাসনামলে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট চান তিনি।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা ধানের শীষের প্রার্থীদের দায়িত্ব নিন। ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আপনাদের দায়িত্ব নেবে। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করাই হবে বিএনপির মূল লক্ষ্য। ন্যায়পরায়ণতাই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: