২০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৯টি ঝুকিপূর্ণ
খাগড়াছড়ির তিন কেন্দ্রে হেলিকপ্টারে নির্বাচনী উপকরণ!
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে খাগড়াছড়ি প্রশাসন। ২০৩ কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৯টি ঝুঁকিপূর্ণ। তার মধ্যে ৬৮টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ১৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিমুক্ত। দীঘিনালা ও লক্ষ্মীছড়ির দুর্গম ৩টি কেন্দ্রে হেলিকপ্টারে পাঠানো হয়েছে ভোটের উপকরণ ও জনবল। অপর দিকে পুরো সংসদীয় আসন নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। রাস্তায় টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবি। খাগড়াছড়ি আসনে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছে।
এ আসনে এবার ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮৮ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৬ হাজার ১৩ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭১ জন। নতুন ভোটর প্রায় ২৭ হাজারের বেশি। খাগড়াছড়ি আসনে রাজনৈতিক সমীকরণ সমতল জেলার তুলনায় কিছুটা ভিন্ন এবং বেশ জটিল।
সরেজমিনে ঘুরে ও মাঠের সমীকরণ বলছে, লড়াইটা মূলত হতে যাচ্ছে বিএনপি বনাম প্রভাবশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্ম জ্যোতি চাকমার মধ্যে। আলোচনায় রয়েছে, জামায়েত ইসলামীর প্রার্থী মো. এয়াকুব আলী ও বিএনপি থেকে বহিঃস্কৃত সমীরণ দেওয়ানও। তবে মাঠের সমীকরণে এগিয়ে বিএনপি।
অনুসন্ধান বলছে, দীর্ঘ দুই দশক পর হাসিনা মুক্ত পরিবেশে এই আসনটি ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়া।
২০০১ সালে খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপির প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়া প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী কল্প রঞ্জন চাকমাকে প্রায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। কিন্তু পরবর্তীতে ১/১১ সরকারের আমলে তিনি গ্রেফতার, সাজা ও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের হামলা-মামলার মধ্যে দলীয় মনোনয়ন পেলেও সরকারের চাপে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। তবে হাসিনামুক্ত পরিবেশে তিনি এবার প্রতিদ্বন্দিতা করতে পারছেন। তিনি ব্যাপক সাড়াও পেয়েছেন।
অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্ম জ্যোতি চাকমাকে সমর্থন দিয়েছেন আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ প্রসীত। ২০১৮ সালে ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী এ আসনে প্রায় ৬২ হাজার ভোট পেয়েছিল। অপর দিকে বিএনপি থেকে বহিঃস্কৃত সমীরণ দেওয়ানকে সমর্থন দিয়েছেন আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতি রিন্দ্র বোধি প্রিয় ওরফে সন্তু লারমা।
অপর দিকে নারীদের পর্দার মধ্যে রেখে তাদের শিক্ষা, স্বাবলম্বী করা ও দুর্নীতিমুক্ত খাগড়াছড়ি গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়েত প্রার্থী এয়াকুব আলী।
১৯৯৬ সালে সারা দেশের মতো খাগড়াছড়িতে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল মোমিন প্রার্থী হয়ে তিন হাজারের কাছাকাছি ভোট পেয়েছিলেন। তবে এবার ভোট বেড়েছে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন।
তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির বিশাল ভোটব্যাংক এবং ওয়াদুদ ভূইয়ার ব্যক্তিগত ইমেজ এই নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর। নির্বাচনী প্রচারণায় ওয়াদুদ ভূইয়া প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সকলকে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অপর দিকে মো. এয়াকুব আলী দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সাধারণ ভোটাররা বলছে, এবার অনেকটা বিচার-বিশ্লেষণ করে ভোট দিতে চান। যারা পাহাড়ের দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করবেন, তাদেরকেই তারা বেছে নেবেন। খাগড়াছড়ি আসনে অপর প্রার্থীরা হচ্ছেন— মিথিলা রোয়াজা (জাতীয় পার্টি-এরশাদ), দূর্নীতির অভিযোগে অপসারিত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা (স্বতন্ত্র), ইসলামী আন্দোলনের মো. কাউছার, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. নুর ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের দীনময় ত্রিপুরা, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. মোস্তফা ও বাংলাদেশ মাইনরিটি পাটির উশ্যৈপ্রু মারমা।
খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের রির্টানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরো জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ের কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার পাঠানো এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।



মন্তব্য করুন: