ঢাকা-৪ আসনে অনিয়মের অভিযোগ, ফল স্থগিত ও পুনর্গণনার দাবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ আসনের ফলাফলের ওপর গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে চূড়ান্ত ফল স্থগিত এবং ভোট পুনর্গণনার দাবি করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–মনোনীত প্রার্থী তানভীর আহমেদ (রবিন)।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভোট গণনা চলাকালীন ফলাফল প্রস্তুতির প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতির অভিযোগ করে তিনি প্রথমে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন দেন। ফল স্থগিত না হওয়ায় শুক্রবার একই দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আবেদন জমা দেন।
লিখিত অভিযোগে তানভীর আহমেদ উল্লেখ করেছেন, ভোট গণনা ও ফল প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একাধিক কেন্দ্রে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের সঙ্গে সমন্বিত ফলাফলের অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। এতে চূড়ান্ত ফলাফলের নির্ভুলতা নিয়ে যৌক্তিক সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন যে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী নির্ধারিত নিয়ম পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কয়েকটি কেন্দ্রে প্রার্থীর এজেন্টদের অনুপস্থিতিতে ভোট গণনা সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া বাতিল ভোটের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখানো হয়েছে বলেও দাবি করেন। ফলাফল শিটের কপি সরবরাহে বিলম্ব এবং পুনর্গণনার মৌখিক আবেদন উপেক্ষা করার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
তানভীর আহমেদের বক্তব্য অনুযায়ী, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে রিটার্নিং কর্মকর্তার ফলাফল ঘোষণার আগে বা পরে পুনর্গণনার আবেদন বিবেচনা করার ক্ষমতা রয়েছে। সেই ভিত্তিতে তিনি ঢাকা-৪ আসনের ফলাফল অবিলম্বে স্থগিত রেখে সব কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পুনর্গণনার নির্দেশ, প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন।
এদিকে ভোটের দিন কয়েকটি কেন্দ্রে ফল প্রকাশে বিলম্ব, নারী কেন্দ্রে পুরুষ এজেন্টের উপস্থিতি এবং ভুয়া প্রেস কার্ড ব্যবহারের অভিযোগে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এসব ঘটনার প্রতিবাদে রাতে বিএনপি নেতাকর্মীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমেদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ফল গণনার সময়ও উত্তেজনা দেখা দেয়। সেখানে নারী ভোটকেন্দ্রে জামায়াতের পুরুষ এজেন্ট উপস্থিত থাকার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া ধানের শীষ প্রতীকের এক নারী এজেন্ট তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: