‘সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব’

সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ব্র্যাক ব্যাংক ও তরুপল্লব আয়োজিত ‘দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক-২০২৪’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, পরিবেশ রক্ষার সংগ্রাম শুধু নীতি বা কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দায়বদ্ধতা। এজন্য নাগরিক সমাজ, সরকার ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণের অব্যাহত অবদান দেশের প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে। উপদেষ্টা শালবন পুনরুদ্ধার, হাতির করিডোর সংরক্ষণ, জিরো সয়েলসহ বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ‘ঢাকা আজ আগের তুলনায় অনেক বেশি সবুজ। প্রায় প্রতিটি বাড়ির ছাদে এখন ছাদবাগান দেখা যায়। মানুষ প্রকৃতিকে ভালোবাসে—এই আত্মিক বন্ধন কখনো ছিন্ন হবে না।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, ব্র্যাক ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক মঈনউদ্দীন আহমেদ, ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও (কারেন্ট চার্জ) তারেক রেফাত উল্লাহ খান এবং তরুপল্লবের সহ-সভাপতি শাহজাহান মৃধা বেনু। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন তরুপল্লবের সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন।
অনুষ্ঠানে যোগ দেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, যিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর রূপান্তরমূলক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি নায়োকা মার্টিনেজ বলেন, “জলবায়ু ন্যায়বিচার, জেন্ডার সমতা ও সবুজ উদ্ভাবনের সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার টেকসই উন্নয়নের অগ্রণী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।”
এবারের অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের জন্য ‘দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক ২০২৪’ প্রদান করা হয় চারজনকে। বৃক্ষসখা সম্মাননায় ভূষিত হন ঝিনাইদহের মো. আমিনুল ইসলাম, মিরসরাইয়ের প্রকল্প সোনাপাহাড় এবং রাঙামাটির সবুজ চাকমা। এছাড়া জীববৈচিত্র্য পুরস্কারে ভূষিত হন বাংলা একাডেমির জীবন সদস্য মিজানুর রহমান ভূইয়া।
বিভি/এজেড
মন্তব্য করুন: