গণভোট আয়োজনে ভোটকক্ষে গোপন বুথ বাড়ানো হবে: ইসি সচিব
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজনের ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না। তবে ভোটারের স্বাভাবিক ভোটদানের গতি নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভোটকক্ষে একাধিক গোপন বুথ স্থাপনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
আজ রোববার সন্ধ্যায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
সচিব জানান, ভোটকেন্দ্র বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কি না তা যাচাই করতে শনিবার একটি মক ভোটিং আয়োজন করা হয়। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভোটকেন্দ্র বাড়াতে হবে না। কিন্তু স্ট্যাম্পিংয়ের জন্য যে গোপন বুথ থাকে তার সংখ্যা বাড়ানো দরকার।
আখতার আহমেদ বলেন, ভোটারদের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া যাতে নির্বিঘ্ন ও স্বাভাবিক থাকে সে কারণেই গোপন বুথ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা অনেক সময় স্থানীয় প্রভাবশালীদের আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। এবারে এ ধরনের আচরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এটি রোধে কমিশন ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নির্বাচনি সময়ে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে, যাতে আবাসনের জন্য কাউকে নির্ভর করতে না হয়।
প্রবাসীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া কারিগরি সমস্যার কারণে সাময়িক স্থগিত থাকলেও এখন তা পুনরায় চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে আখতার আহমেদ বলেন, ঠিকানা বা বানান সংশোধনের মতো নতুন কিছু সুবিধা এবার যুক্ত করা হয়েছে। তথ্য সংশোধনের ‘এডিট মোড’ পূর্বে সীমিত ছিল, এখন তা সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
ইসি সচিব জানান, জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে ‘কন্টাক্ট পয়েন্ট’ নির্ধারণ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি তেজগাঁও ও এয়ারপোর্টে অবস্থিত ব্যালট পেপার প্রিন্টিং ও সর্টিং সেন্টার পরিদর্শনের জন্য ডাক বিভাগকে অংশীজনদের নিয়ে ভিজিটের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে, যাতে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে সুবিধা হয়।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে প্রধান দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। তারা জানিয়েছে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও বড় কোনো সমস্যা নেই। তারা অতিরিক্ত কোনো জটিলতা এড়াতে সতর্ক রয়েছে।
আজ দুপুর তিনটা থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার আগে সার্বিক সমন্বয়, নিয়োগ পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে ২১টি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিভাগের প্রধানদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন।
বিভি/এজেড




মন্তব্য করুন: