• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ

‘অধিকার, ন্যায়বিচার, কাজ; সকল নারী ও কন্যার জন্য’

প্রকাশিত: ০০:১০, ৮ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ০০:১৬, ৮ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
‘অধিকার, ন্যায়বিচার, কাজ; সকল নারী ও কন্যার জন্য’

আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় দিবসটি। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য- ‘অধিকার, ন্যায়বিচার, কাজ; সকল নারী ও কন্যার জন্য’।  মূলত- নারীর অধিকার, মর্যাদা, সমতা ও ক্ষমতায়নের বিষয়টি সামনে এনে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করাই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। এই দিনটি শুধু উদযাপনের নয়, বরং নারীদের প্রতি বৈষম্য দূর করে তাদের জন্য একটি নিরাপদ ও সমান সুযোগের বিশ্ব গড়ে তোলার অঙ্গীকারের দিন।

জানা যায়, ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধরা প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে চলে সরকার বাহিনীর দমন-পীড়ন।

১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দেন। এ সম্মেলনে প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত হয়, ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা।

১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে বেশ কয়েকটি দেশ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করে। অতঃপর ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এরপর থেকে সারা পৃথিবী জুড়েই পালিত হচ্ছে দিনটি নারীর সমঅধিকার আদায়ের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার অভীপ্সা নিয়ে। সারা বিশ্বের সকল দেশে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বাংলাদেশেও ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের আগে থেকেই দিবসটি পালন করা হয়।

বর্তমান বিশ্বে নারীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। বাংলাদেশেও নারীরা নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। গ্রামীণ অর্থনীতি থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা পর্যন্ত সর্বত্র নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ দৃশ্যমান।

তবে, এখনো অনেক নারী সহিংসতা, বৈষম্য ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন। নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য সরকার, সমাজ ও পরিবারের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়- নারীর অধিকার মানে মানবাধিকার। নারীকে পিছিয়ে রেখে কোনো সমাজ বা রাষ্ট্র টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না। তাই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

এই দিনে আমরা অঙ্গীকার করতে পারি- নারীর প্রতি সম্মান, সমান অধিকার ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে এমন একটি সমাজ গড়ে তুলব, যেখানে নারী ও পুরুষ সমান মর্যাদায় এগিয়ে যাবে।

দিবসটি উপলক্ষে বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী-পুরুষ সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজে কাজ করবে।’

 

 

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: