• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে সংসদে আইন পাশ

প্রকাশিত: ১৭:২৭, ৮ এপ্রিল ২০২৬

ফন্ট সাইজ
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে সংসদে আইন পাশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম কার্যদিবসে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

আইনে বলা হয়েছে, এটি ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং এর কার্যকারিতা ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে বলবৎ হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। আইনের সংজ্ঞা অংশে বলা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানকারী” বলতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিকে বোঝাবে; “কমিশন” বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বোঝানো হয়েছে; “জুলাই গণঅভ্যুত্থান” বলতে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানকে বোঝাবে; “বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার” বলতে রাজনৈতিক প্রতিরোধের আড়ালে ব্যক্তিস্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে বোঝাবে; “রাজনৈতিক প্রতিরোধ” বলতে ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কার্যক্রমকে বোঝানো হয়েছে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যমান অন্য কোনো আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে এই আইনের বিধানই প্রাধান্য পাবে।

আইন অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা নির্ধারিত বিধান অনুসারে প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত নতুন কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা দায়ের আইনত নিষিদ্ধ করা হয়েছে (ধারা ৫-এর শর্ত সাপেক্ষে)।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে, যা পরবর্তীতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই সময় নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র হামলা প্রতিরোধ, জনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং আত্মরক্ষার লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারী গণঅভ্যুত্থানকারীদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী আইনি সুরক্ষা প্রদান প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে।

এই প্রেক্ষাপটে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: