অভিন্ন পানিতে ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান
পানি নিরাপত্তায় প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চায় বাংলাদেশ
অভিন্ন পানিসম্পদের ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার নিশ্চিত এবং পানি নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারকে বাস্তব ও পরিমাপযোগ্য কার্যক্রমে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। দেশটির পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও মিঠাপানির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলায় পারস্পরিক আস্থা, স্বচ্ছ তথ্য বিনিময় এবং শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সাইড ইভেন্ট হিসেবে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ‘ইউনাইটেড ফর ওয়াটার: আ কল ফর কালেক্টিভ অ্যাকশন’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান। সৌদি আরবের স্থায়ী মিশন আয়োজিত বৈঠকে পানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অভিন্ন পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।
বক্তব্যের শুরুতে সাইমুম পারভেজ বলেন, ‘পানি আমাদের সংযুক্ত করে। এটি মানুষ, অর্থনীতি ও প্রতিবেশব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখে। পানি সীমান্ত অতিক্রম করে এবং আমাদের অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করে।’
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং মিঠাপানির ওপর বাড়তে থাকা চাপের কারণে শুধু জাতীয় উদ্যোগের মাধ্যমে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। আবু ধাবিতে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ পানি সম্মেলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারকে এমন সহযোগিতায় রূপ দিতে হবে, যা বাস্তব ও পরিমাপযোগ্য ফলাফল নিশ্চিত করবে।
অভিন্ন নদী ও ভূগর্ভস্থ জলাধার ব্যবস্থাপনায় ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার, নিয়মিত সংলাপ, সময়োপযোগী তথ্য বিনিময় এবং বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর মতে, এসব সহযোগিতার ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক আস্থা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানিপ্রবাহ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সহযোগিতামূলক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও জরুরি।
উন্নয়নশীল ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বাস্তব সহায়তার আহ্বান জানিয়ে সাইমুম পারভেজ বলেন, সহজলভ্য অর্থায়ন, উপযুক্ত প্রযুক্তি এবং সহনশীল পানি অবকাঠামো ও সেবা গড়ে তোলার সক্ষমতা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ বদ্বীপ ও নিম্ন অববাহিকার দেশ হিসেবে বাংলাদেশ একই সঙ্গে বন্যা, পানির সংকট, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ এবং উপকূলীয় লবণাক্ততার মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।
তিনি নদী, খাল ও নিষ্কাশনব্যবস্থা পুনরুদ্ধার, বন্যা ব্যবস্থাপনা জোরদার, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভূগর্ভস্থ পানি পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। পানি ও পরিবেশগত সহনশীলতাকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সরকারের গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রসঙ্গে সাইমুম পারভেজ বলেন, বাংলাদেশ নদীতীরবর্তী দেশগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপ, অভিন্ন পানিসম্পদের ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার, স্বচ্ছ তথ্য বিনিময় এবং আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের আহ্বান জানায়।
১৯৯২ সালের জাতিসংঘ পানি কনভেনশনে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অন্তর্ভুক্তিকে আন্তর্জাতিক পানি সহযোগিতার প্রতি দেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে সাইমুম পারভেজ বলেন, একটি বদ্বীপ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তার অভিজ্ঞতা বিশ্বের সঙ্গে ভাগ করে নিতে এবং জ্ঞান, অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সমন্বয়ে অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, অভিন্ন পানির চ্যালেঞ্জকে অভিন্ন অগ্রগতিতে রূপান্তর করি।’
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: