বাইকের সামনে নম্বরপ্লেট লাগানো নিয়ে বিআরটিএ’র নতুন প্রস্তাব
মোটরসাইকেলের সামনে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট লাগানোর নির্ধারিত সময়সীমা দেড় মাস বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আগামী ১৫ নভেম্বরের পরিবর্তে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেলে সামনে নম্বরপ্লেট সংযোজনের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিআরটিএ চেয়ারম্যানের পাঠানো বিবেচ্যপত্রে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা প্রায় ৬৮ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৭৪ শতাংশ, অর্থাৎ ৫০ লাখের মতো মোটরসাইকেল। এত বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেলে স্বল্প সময়ের মধ্যে সামনের নম্বরপ্লেট লাগানো কঠিন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোটরসাইকেলের মালিক ও চালকদের মধ্যে নানা আলোচনা ও মতামত উঠে এসেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর আগে বিআরটিএর এক গণবিজ্ঞপ্তিতে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট লাগিয়ে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ ও সড়ক পরিবহন বিধিমালা-২০২২ অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের পেছনে আগে থেকেই আরএফআইডি সংবলিত উন্নতমানের রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ ধাতব নম্বরপ্লেট ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় সামনের অংশেও নম্বরপ্লেট সংযোজনের সিদ্ধান্ত নেয় বিআরটিএ।
বিজ্ঞপ্তিতে নম্বরপ্লেটের আকার ও নকশা সম্পর্কেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্কুটারের ক্ষেত্রে নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য ২০০ মিলিমিটার ও প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্য মোটরসাইকেলের জন্য দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার রাখতে বলা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার হতে হবে।
নম্বরপ্লেট তৈরি করতে হবে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে। সাদা পটভূমিতে কালো রঙে বাংলা হরফ ও সংখ্যা ব্যবহার করতে হবে। এতে কোনো ধরনের অতিরিক্ত নকশা বা শোভাবর্ধক উপাদান রাখা যাবে না। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর এক লাইনে সোজাসুজি বসানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেলের মালিকদের নিজ উদ্যোগে নির্ধারিত নিয়ম মেনে সামনের নম্বরপ্লেট লাগানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সময়সীমা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিআরটিএ।
বিভি/এজেড













মন্তব্য করুন: