স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সিঙ্গাপুরের অনাবাসী হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের অনাবাসী হাইকমিশনার ডেরেক লো। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনালে বিনিয়োগ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), সাইবার নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়নসহ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনাল প্রকল্পে সিঙ্গাপুরের পিএসএ ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ ও পরিচালনার অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পিএসএ প্রস্তুত রয়েছে। বে টার্মিনাল চালু হলে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এর ইতিবাচক প্রভাব তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের সামগ্রিক কল্যাণেও পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে চলমান আলোচনার অগ্রগতিও উঠে আসে। হাইকমিশনার জানান, এ-সংক্রান্ত আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাড়াতে চুক্তিটি দ্রুত বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল জালিয়াতি প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইবার অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণা মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের জন্য প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা বিনিময়ের অনুরোধ জানান। এ সময় অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশে নতুন ‘পুলিশ সাইবার ইউনিট’ গঠনের প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। জবাবে সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধিদল প্রশিক্ষণ ও যৌথ সাইবার তদন্তে সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব জানায়।
এ ছাড়া সিঙ্গাপুর কো-অপারেশন প্রোগ্রামের (এসসিপি) আওতায় বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও তরুণ সংসদ সদস্যদের জন্য অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রস্তাব দেন হাইকমিশনার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।
বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। এ সময় হাইকমিশনার তাকে সুবিধাজনক সময়ে সিঙ্গাপুর সফরের আমন্ত্রণ জানান।
সাক্ষাৎকালে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ ওং, পিএসএ ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক প্রধান ওং জি পিং, এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক প্রতিনিধি বেঞ্জামিন চু, সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেস্ক অফিসার মৃথিনী ত্যাগরাজন এবং বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: