• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

মাদক নিয়ন্ত্রণে অপরাধীদের কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করতে হবে: অতিরিক্ত আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:০৪, ৩ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২২:০৫, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মাদক নিয়ন্ত্রণে অপরাধীদের কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করতে হবে: অতিরিক্ত আইজিপি

মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান চালিয়ে বাহক বা খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করে সুফল পাওয়া সম্ভব নয়; বরং এর মূল সরবরাহকারী, অর্থদাতা ও নেপথ্যের প্রভাবশালী চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি মাদক চোরাকারবারিদের দ্রুত শনাক্ত করতে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি সমন্বিত কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করার ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. জিল্লুর রহমান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) সহযোগিতায় ও বিশ্ববিদ্যালয়টির সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে ‘পলিসি ডায়ালগ অন এ ড্রাগ ফ্রি বাংলাদেশ: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অ্যাকশন’ শীর্ষক এক নীতিসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

মো. জিল্লুর রহমান বলেন, মাদক কারবারিরা পরিবহনের বিভিন্ন মাধ্যম বিশেষ করে রেলপথকে ব্যবহার করছে। বিশাল রেল নেটওয়ার্কে নজরদারি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও পুলিশ তা মোকাবিলা করছে। কারা মাদকের চালান সংগ্রহ ও অর্থায়ন করছে, তা খুঁজে বের করতে তিনি গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ডিআইইউর উপাচার্য মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়কে কাজ করতে হবে। কেউ মাদকে জড়ালে শুধু শাস্তির আওতায় না এনে সে কেন ঝুঁকছে, তা চিহ্নিত করে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কাউন্সেলিং নিশ্চিত করতে হবে। 

ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শুধু অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন না করে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। হতাশা থেকে মানুষ মাদকে ঝুঁকছে, তাই ধর্মীয় অনুশাসন ও মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানো জরুরি।

নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন বলেন, মাদক সরবরাহের অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে দিতে হবে। কারবারের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। 

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাবের মো. সোয়াইব জানান, সাধারণ মানুষ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে তথ্য দিতে ভয় পান। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তথ্যদাতাদের আস্থায় নিতে জেলা প্রশাসন ‘হ্যালো ডিসি’ নামে একটি নাগরিক সেবার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।

রাজধানীর কন্টিনেন্টাল হসপিটালের মনোরোগ বিভাগের চিফ কনসালট্যান্ট এস এম কবির জুয়েল বলেন, মাদকাসক্তকে সুস্থ জীবনে ফেরাতে শুধু ওষুধ নয়; দীর্ঘমেয়াদি মনোসামাজিক চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও পারিবারিক সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশে মাদকাসক্তদের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর মানোন্নয়ন এবং প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: