• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশের মানুষকে কখনো দাবিয়ে রাখা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৬:২৭, ৭ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৬:৪৯, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশের মানুষকে কখনো দাবিয়ে রাখা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশের মানুষকে কখনো দাবিয়ে রাখা যাবে না। দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রত্যেককে একে একে জবাব দেওয়া হবে।

শনিবার (৯ নভেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিপূর্ব সমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বহু বছর পর দেশের মানুষ মুক্তভাবে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু দেশের বিরুদ্ধে আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতীতের মতো এবারও কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করতে দেয়া হবে না।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে, লাখ লাখ মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মানুষের প্রত্যাশা ও অধিকার প্রতিফলিত হবে। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখা এবং তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়েই দেশে ষড়যন্ত্র ও বন্ধনের রাজনীতির সূচনা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই দিন সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে নিতে না পারা মহল বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বারবার দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করেছে। জনগণের ভোটাধিকারও বিভিন্ন সময়ে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আবারও নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও সেই অধিকার বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতোই ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অপশক্তিকে পরাজিত করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে স্বৈরাচারী শক্তিকেও দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে ছাত্র-জনতা। এ দেশের মানুষ অতীতেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাদের আন্দোলন ও অধিকারকে থামিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বাধাগ্রস্ত করতে চায় এবং জনগণের ভোটের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা বন্ধ করতে চায়। কিন্তু ১৯৭১, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ইতিহাস প্রমাণ করে, বাংলাদেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে জানে। জনগণকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী এবং জনগণের ভোটাধিকারের পক্ষে থাকা সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ রাখা উচিত নয়। দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব একে একে দেয়া হবে। কোনো শক্তিই এ দেশের মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।

বিভি/এসজি

মন্তব্য করুন: