৭ নভেম্বরের চেতনা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা: ইশরাক হোসেন
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের সঙ্গে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের অনেকাংশে মিল রয়েছে। এ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিপথগামী সেনাসদস্যদের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হরণ করে দেশকে ভিন্ন পথে নিয়ে যাচ্ছিল। সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান। ৩ নভেম্বর থেকে তিনি বন্দি ছিলেন। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন।
তিনি বলেন, তাদের প্রজন্মের কাছে ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট ও ঘটনাপ্রবাহ সিনিয়রদের কাছ থেকে শোনা ইতিহাস। তবে সিপাহি-জনতার এই বিপ্লব ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেরও একটি অনুপ্রেরণা ছিল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও সেনাবাহিনীর ইতিবাচক ভূমিকা দেখা গেছে। বিশেষ করে নিরীহ ও নিরস্ত্র জনগণের ওপর গুলি চালাতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। শেখ হাসিনার নির্দেশনা না মেনে তারা জনগণ ও ছাত্র-জনতার সঙ্গে একাত্ম হয়েছিল এবং বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে ভূমিকা রেখেছিল।
নতুন প্রজন্মের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে ইশরাক বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার আদর্শ হিসেবে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ রেখে গেছেন। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সেই আদর্শ ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, জিয়াউর রহমান তার জন্মেরও অনেক আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু আজকের দিনে তার মতো অনেক তরুণ মনে করেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শ। ৫০ বছর আগে জিয়াউর রহমান যে বিষয়টি অনুধাবন করেছিলেন, আজকের তরুণেরাও তা উপলব্ধি করতে পারছেন। এই আদর্শ ধারণ করেই আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবেন তারা।
ইশরাক হোসেন আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশ বাকশালের কালো থাবা থেকে মুক্ত হয়ে গণতন্ত্রের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সেই বিপ্লবের অনেকাংশে মিল রয়েছে। নতুন প্রজন্মের প্রতি তাদের বার্তা হলো, বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে হবে এবং দেশ যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদী আমলে ফিরে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগের মাধ্যমে বাকশাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদ কায়েম, গণতন্ত্র হত্যা, গুম, খুন, অত্যাচার-নির্যাতন এবং বাংলাদেশকে লুটপাটের ঘটনাও আওয়ামী লীগের মাধ্যমে ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নেত্রী এখন বিদেশে পলাতক অবস্থায় বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিয়ে দেশে ফেরার কথা বলার চেষ্টা করছেন। আমরা চাই, তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে ২০২৪ সালে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার মানুষকে হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশের মাটিতে বিচার করা হোক। এটাই আমাদের আজকের দিনের বার্তা।
বিএনপির ভূমিকা তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা যেমন একটি টার্নিং পয়েন্ট ছিল, তেমনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবও ছিল একটি টার্নিং পয়েন্ট। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে বিএনপি কখনো আপস করেনি। আপসহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াও কোনো দিন আপস করেননি।
তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির আদর্শে বিশ্বাস করি। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান বুকে ধারণ করে আগামী দিনে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: