• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

নাসিক নির্বাচনে ব্যয় কমিয়েছে ইভিএম, ভবিষ্যতে কমবে আরও

প্রকাশিত: ২২:০৫, ১৮ জানুয়ারি ২০২২

আপডেট: ১২:৪৮, ১৯ জানুয়ারি ২০২২

ফন্ট সাইজ
নাসিক নির্বাচনে ব্যয় কমিয়েছে ইভিএম, ভবিষ্যতে কমবে আরও

দিনদিন সবকিছুতে ব্যয় বাড়লেও সদ্যসমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনের আগেরবারের চেয়ে এবার ব্যয় কমেছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)-এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করার কারণে এই ব্যয় কম হয়েছে এবং ভোটে ইভিএম ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে নির্বাচনী ব্যয় আরও কমে আসবে বলেও জানান নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।

এই বিষয়ে কথা হলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইডেনটিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) প্রকল্প-২ এর প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল কাশেম মো. ফজলুল কাদের বাংলাভিশন ডিজিটালকে বলেন, প্রথমে আমরা আসি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিকে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এর আগেরবার (ব্যালট ব্যবহার করে ভোট হয়েছিলো) ব্যয় হয়েছিলো ২০ কোটি টাকা। পরের নির্বাচনে (ইভিএম-এর মাধ্যমে ভোট) আমরা সেটি ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা খরচ করে নির্বাচন সম্পন্ন করতে পেরেছি। ভোটে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা যদি আমরা কমাতে পারি। তাহলে নির্বাচনী ব্যয় আরও কমে আসবে। 

তিনি বলেন, ইভিএমে ভোট হওয়ার ফলে ব্যালট পেপার ছাপাতে হচ্ছে না। আগে ট্রাক ভরে ভরে ব্যালট পেপার নিয়ে যেতে হতো। ইভিএম ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে নির্বাচনী ব্যয় আরেও কমে আসবে বলেও জানান তিনি। 

ইসি কর্মকর্তারা জানান, এবার নাসিক নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় হয়েছে কমবেশি ৫০ লাখ টাকা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক কোটি টাকার মতো। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীগুলোর চাহিদার ভিত্তিতে এই সংখ্যা বাড়তে বা কমতে পারে।  

জানা যায়, ২০১৬-এ অনুষ্ঠিত নাসিক নির্বাচনে ব্যয় হয়েছিলো ৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এবারের চেয়ে তখন চারগুণ ব্যয় হয়েছিলো। তখন নির্বাচন পরিচালনার এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য তিন কোটি টাকা করে মোট ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ ছিলো।

ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচন পরিচালনার সিংহভাগ ব্যয় ব্যালট পেপার ছাপানো ও ব্যবস্থাপনার পেছনে হয়। এছাড়াও ৪০ ধরণের নির্বাচনী উপকরণ ক্রয় করতে হয়। অন্যদিকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ভাতাসহ অন্যান্য ব্যয় রয়েছে।  

জানা যায়, ২০১৬-এ নাসিকে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট হয়। তখন ভোটার সংখ্যা ছিলো চার লাখ ৭৪ হাজার ৯৩১ জন। মেয়র, সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য এই তিন পদের জন্য ইসিকে পৃথক রঙের ১৪ লাখ ২৪ হাজার ৭৯৩টি ব্যালট পেপার ছাপাতে হয়।

এবার ভোটার সংখ্যা ছিলো ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৫১ জন। অর্থাৎ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট হলে তিন পদে জন্য ১৫ লাখ ৫২ হাজার ৫৩টি ব্যালট পেপার ছাপানো হতো। কিন্তু ইভিএমে ভোটগ্রহণ করায় ব্যালট পেপারের পেছনে বিরাট অংকের টাকা বেঁচে গেছে।  

১৬ জানুয়ারি নাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে একটি মেয়র পদে সাতজন, ৯টি সংররিক্ষত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৪ জন এবং ২৭টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী টানা তৃতীয়বারের মতো মেয়র পদে জয় লাভ করেন। 

 

বিভি/এইচকে/রিসি 

মন্তব্য করুন: