• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

রক্তদানের মতো একদিন অঙ্গ দানও সহজ হবে দেশে: ডা. দেবব্রত বণিক

প্রকাশিত: ০০:১১, ২০ জানুয়ারি ২০২৩

আপডেট: ১১:০৮, ২০ জানুয়ারি ২০২৩

ফন্ট সাইজ
রক্তদানের মতো একদিন অঙ্গ দানও সহজ হবে দেশে: ডা. দেবব্রত বণিক

ডা. দেবব্রত বণিক (বায়ে) ও সারাহ ইসলাম

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক বিরাট মাইলফলক দেখিয়েছে বাংলাদেশ। দেশে প্রথমবারের মতো মৃত ব্যক্তির (ব্রেইন ডেথ) দান করা কিডনি অন্য ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। বুধবার (১৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) ভোররাত ৪টা পর্যন্ত দুটি কিডনির একটি প্রতিস্থাপন করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ); অন্যটি প্রতিস্থাপন করা হয় কিডনি ফাউন্ডেশনে। এরই মধ্যে দিয়ে নতুন দিগন্তে পা রাখলো বাংলাদেশ। এমনটাই বলছিলেন বিএসএমএমইউ এর আনেসথেসিয়া বিভাগের অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বণিক।

বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) সফল কিডনি প্রতিস্থাপন শেষে বিকালে এক সাক্ষাৎকার প্রদানকালে ডা. বণিক এসব কথা বলেন।

বাংলাভিশনের প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলছেন ডা. দেবব্রত বণিক

জানা যায় সারাহ ইসলাম নামের (২০) এক তরুণীর দান করা কিডনি দুই নারীর দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ওই তরুণী তার দুটি কর্নিয়াও দান করে গেছেন। ২০ বছর বয়সী সারাহ রোগশয্যায় থেকে নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অন্যকে দান করার ইচ্ছা মাকে জানিয়েছিলেন। তার দুটি কিডনি ও দুটি কর্নিয়া চার ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপন করেছেন দেশের চিকিৎসকেরা।

ডা. বণিক জানিয়েছেন, সদ্য প্রয়াত সারাহ জন্মগত অটিজমাল ডমিন্যালে আক্রান্ত ছিলেন। তার সারা শরীরে গুটি গুটি ছিল। যে কারনে স্কুলে গেলে বা কারো সাথে মিশতে গেলে সবাই তাকে তাচ্ছিল্য করতো। পরে ব্রেইন অ্যাটাক হয়ে টিউবার স্কেলরিজিজ রোগে আক্রান্ত হন ওই তরুণী। তার শিক্ষিকা মায়ের অনুপ্রেরণায় দেশে অঙ্গদানের মতো মহৎ কাজের সূচনা হলো। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ একটি নতুন যুগে পা রাখলো। আর সেখানে প্রথম পদচিহ্নটা থাকলো সারাহ ইসলামের।

প্রথম কিডনি প্রতিস্থাপনে অস্ত্রোপচারের নেতৃত্ব দেওয়া ছিলেন বিএসএমএমইউর রেনাল ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। ওই দলে আরও ছিলেন হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক তৌহিদ মো. সাইফুল হোসাইন, সহযোগী অধ্যাপক ফারুক হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক কার্তিক চন্দ্র ঘোষসহ ১৫ চিকিৎসক। 

ডা. বণিক জানান, অস্ত্রোপচারে সময় লাগে দেড় ঘণ্টা। এরপর কিডনিটিকে প্রতিস্থাপনযোগ্য করতে আধা ঘণ্টা লাগে। কিডনি প্রতিস্থাপনে সময় লাগে আরও দুই ঘণ্টা। সারাহ ইসলামের দুইটি কিডনি দুজনের দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। দুজনই নারী। এরই মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চিকিৎসাজগতে প্রথমবারের মতো একটি ঘটনা ঘটে গেল। দেশে প্রথমবারের মতো মৃত ব্যক্তির দান করা কিডনি প্রতিস্থাপন করা হলো অন্য ব্যক্তির দেহে। ভারতে সাত-আট বছর আগ থেকেই এ কাজ শুরু হয়। আমাদের দেশে কয়েকবার চেষ্টা করেও হয়ে ওঠেনি। এবার সেটি সম্ভব হলো। রক্তদানের মতো একদিন মরণোত্তর দেহদানও বাংলাদেশে সহজ হবে।

বিভি/এসএম/এজেড

মন্তব্য করুন: