• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের আকাশে দেখা যাবে ৫ মহাজাগতিক দৃশ্য, জানা গেল সময়

প্রকাশিত: ২১:০৫, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বাংলাদেশের আকাশে দেখা যাবে ৫ মহাজাগতিক দৃশ্য, জানা গেল সময়

চলতি অক্টোবরের বাকি দিনগুলোতে বাংলাদেশের রাতের আকাশে দেখা মিলতে পারে পাঁচটি আকর্ষণীয় মহাজাগতিক দৃশ্যের। এর মধ্যে রয়েছে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি, শনি ও শুক্র গ্রহের উজ্জ্বল উপস্থিতি, হান্টার্স মুন এবং বিভিন্ন নক্ষত্রমণ্ডল ও অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণের সুযোগ।

বর্ষার পর আকাশ তুলনামূলক পরিষ্কার থাকলে এসব মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগের ভালো সুযোগ তৈরি হয়। তবে আবহাওয়া, মেঘের উপস্থিতি এবং আলোকদূষণের ওপর নির্ভর করবে দৃশ্যগুলো কতটা স্পষ্ট দেখা যাবে।

বিশ্বের জনপ্রিয় জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘অ্যাস্ট্রোনমি’ ম্যাগাজিনের ওয়েবসাইট অ্যাস্ট্রোনমি ডটকমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে অক্টোবরের বাকি সময়ের উল্লেখযোগ্য পাঁচটি মহাজাগতিক দৃশ্য তুলে ধরা হলো।

১. ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি
অক্টোবরের অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক ঘটনা ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি। বিখ্যাত হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে জ্বলে ওঠার ফলেই এ উল্কাবৃষ্টির সৃষ্টি হয়।

আগামী ২১ ও ২২ অক্টোবরের মধ্যবর্তী রাতে এ উল্কাবৃষ্টি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত আকাশে একের পর এক উল্কা ছুটে যেতে দেখা যেতে পারে। অনুকূল পরিস্থিতিতে ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ১৫টি উল্কা দেখার সুযোগ মিলতে পারে।

উল্কাবৃষ্টি দেখতে দূরবিনের প্রয়োজন নেই। বরং শহরের কৃত্রিম আলো থেকে দূরে খোলা জায়গায় অবস্থান করে অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলে দেখার সম্ভাবনা বাড়বে।

২. সন্ধ্যার আকাশে উজ্জ্বল শনি
অক্টোবরের শেষভাগেও সন্ধ্যা ও রাতের আকাশে শনির উপস্থিতি জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের আকৃষ্ট করবে। সূর্যাস্তের পর আকাশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে তাকালে গ্রহটিকে শনাক্ত করার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

শনি সাধারণত স্থির, হালকা হলুদাভ আভায় দেখা যায়। খালি চোখে এর বলয় দেখা সম্ভব নয়। তবে ভালো মানের ছোট টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে শনির বলয় পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। একইভাবে উপযুক্ত যন্ত্রের সাহায্যে শনির বৃহত্তম উপগ্রহ টাইটানও দেখার সুযোগ মিলতে পারে।

৩. গোধূলির আকাশে শুক্র, পরে বৃহস্পতি
অক্টোবরের শেষ দুই সপ্তাহে সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে শুক্র গ্রহকে উজ্জ্বল বিন্দুর মতো দেখা যেতে পারে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে গোধূলির আলো কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে এটি সহজেই চোখে পড়বে। খালি চোখেই শুক্র পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।

অন্যদিকে, বৃহস্পতি রাতের পরের অংশে আকাশে দৃশ্যমান হবে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ব আকাশে গ্রহটির অবস্থান খেয়াল করা যেতে পারে। তবে নির্দিষ্ট সময়ে গ্রহগুলোর অবস্থান পর্যবেক্ষণের জন্য স্থানীয় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুসরণ করা ভালো।

৪. হান্টার্স মুন ও চাঁদের সঙ্গে শনির অবস্থান
অক্টোবরের শেষভাগে পূর্ণিমার চাঁদ রাতের আকাশের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে। হান্টার্স মুন নামে পরিচিত পূর্ণিমাটি উত্তর গোলার্ধের প্রচলিত ঋতুভিত্তিক নামগুলোর একটি।

এ সময় চাঁদ দিগন্তের কাছাকাছি থাকলে বায়ুমণ্ডলীয় প্রভাবের কারণে এর রং সোনালি বা কমলা দেখাতে পারে। আকাশে ওপরে ওঠার পর সাধারণত চাঁদকে উজ্জ্বল সাদা দেখায়।

এ ছাড়া ২৪ অক্টোবরের দিকে চাঁদ ও শনিকে আকাশের কাছাকাছি অবস্থানে দেখা যেতে পারে। তবে তাদের আপাত দূরত্ব ও দৃশ্যমানতা নির্ভর করবে পর্যবেক্ষণের সময় এবং অবস্থানের ওপর।

৫. হেমন্তের নক্ষত্রমণ্ডল ও অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি
অক্টোবরের শেষভাগে রাতের আকাশে বিভিন্ন নক্ষত্রমণ্ডল পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়। এর মধ্যে রয়েছে পেগাসাস ও ক্যাসিওপিয়া। পেগাসাসের চারটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের তৈরি বড় চতুর্ভুজ এবং ক্যাসিওপিয়ার ইংরেজি ‘ডব্লিউ’ অক্ষরের মতো আকৃতি সহজেই শনাক্ত করা যায়।

এ সময় অন্ধকার আকাশ থেকে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সিও পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করা যেতে পারে। এটি আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির নিকটতম বৃহৎ প্রতিবেশী ছায়াপথ। দূষণমুক্ত অন্ধকার আকাশে খালি চোখে আবছা আলোর দাগের মতো দেখা যেতে পারে গ্যালাক্সিটি। তবে বাইনোকুলার ব্যবহার করলে পর্যবেক্ষণ তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

মহাজাগতিক দৃশ্যগুলো উপভোগ করতে শহরের উজ্জ্বল আলো থেকে দূরে খোলা জায়গা বেছে নেওয়া এবং আকাশ পরিষ্কার থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত