মাদরাসার কারণেই ভয়ানক বৈষম্যের বেড়াজালে আমার জীবন!

বেশিদিন আগের কথা নয়। ২০১৯ সালের কোন একদিন আমি একটি জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে একটি বাংলা দৈনিক পত্রিকার অফিসে যাই একটি কাজের পাওয়ার আশায়। অবশ্য আমার এক সহকর্মী সেখানে যেতে আমাকে উৎসাহিত করেছেন। সেখানে গিয়ে প্রায় ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর সেখানকার সম্পাদক সাহেব আমাকে ডাকলেন। আমি তাকে আমার সাধ্য অনুযায়ী বুঝাবার চেষ্টা করলাম যে আমার কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে আমি একটি কাজ চাই। কিন্তু তিনি কাজ তো দিলেনই না বরং আমার জীবনবৃত্তান্ত দেখে আমার দিকে বাঁকা চোখে তাকালেন।
এরপর কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে বললেন, তোমার সার্টিফিকেট আমাদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মানানসই নয়। তার এমন বৈজ্ঞানিক যুক্তিসম্মত কথা আমি বুঝতে না পারায় কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থাকি। ততক্ষণে সম্ভবত তিনি আন্দাজ করলেন যে আমি তার কথা বুঝতে পারিনি। এরপর তিনি সরাসরি না বলে বিভিন্ন ইঙ্গিতে আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন যে, আমি মাদরাসায় পড়াশুনা করায় তিনি আমাকে তার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানে কাজ দিতে অপারগ।
প্রথমে তেমন কিছু উপলব্দি করতে না পারলেও একটু পর মাদরাসায় পড়াশুনা করাই হলো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাপ। মাদরাসা নামক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েই জীবনের অনেক স্বাধীনতাকে বিসর্জন দিয়েছি, অভিশপ্ত বানিয়ে নিয়েছি নিজের জীবনকে। মাদরাসাই আমার জীবনকে ফেলে দিয়েছে এক ভয়ঙ্কর বৈষম্যের বেড়াজালে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিভিন্ন সম্পাদকদের বৈঠকে দেখলাম সেই সম্পাদকও একদম সামনের কাতারে। অথচ আমাদের বিপ্লবটা প্রথম থেকেই হয়েছে বৈষম্যের বিরুদ্ধে। প্রথমে ছাত্ররা পরে ছাত্র এবং জনতা একত্রিত হয়ে অসংখ্য জীবন বিসর্জন দিয়ে লড়ে গেছে বৈষম্যের বিরুদ্ধে। কতজন অজ্ঞাত কবরস্থ হয়েছে, কতজনের লাশ জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে তারও কোন হিসাব নেই। শিক্ষার্থী ছাড়াও বিপ্লবে শহীদ হয়েছে অনেক শ্রমিক ও দিনমজুর। যারা নিজের কোন স্বার্থ ছাড়াই নেমে পড়েছিল স্বৈরাচারের প্রাণঘাতী রণক্ষেত্রে। কিন্তু বিপ্লবের পরও সর্বত্র সেই এলিটদের পদচারণা....
প্রথম থেকেই আমি নিজে মাদরাসায় পড়ার কারণে একটি দীর্ঘ সময় ধরে বৈষম্যের শিকার হয়েছি বহু জায়গায়। যারা এ বৈষম্য তৈরি করেছে তারা অনেকেই আমার সামনে আছে। তবে তাদের বিচার ও দায়িত্ব থেকে অপসারণের আশ্বাস না পেলে নাম প্রকাশ করে আমাকে আরো বড় ঝামেলায় পড়তে হবে। কারণ পুরো দুনিয়াটাই ঘোরে এলিট ও অর্থের পেছনে।
লেখক: সংবাদকর্মী
(বাংলাভিশনের সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে লেখকের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির আইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে লেখকের, বাংলাভিশন কর্তৃপক্ষের নয়। লেখকের নিজস্ব মতামতের কোনো প্রকার দায়ভার বাংলাভিশন নিবে না।)
বিভি/এজেড
মন্তব্য করুন: