• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪

‘সন্তান খুঁজছে বাবাকে, নাতি খুঁজছে দাদাকে’

প্রকাশিত: ২১:৩২, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আপডেট: ২১:৩৪, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ফন্ট সাইজ

সন্তান খুঁজছে বাবাকে, নাতি খুঁজছে দাদাকে। পথে-ঘাটে, কখনো বা হাজী ক্যাম্পে। আবার কখনোও বা এয়ারপোর্টে। কোথাও নেই, প্রশ্ন একটাই- কোথায় আছে সত্তরোর্ধ্ব আবদুল আজিজ খান?

গেলো বছরের ১ রমজানের দিন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নিজ বাড়ি থেকে সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরদিন থেকে তার আর কোনো সন্ধান পায়নি স্বজনেরা। 

স্বজনদের অভিযোগ- গত বছরের ২৩ মার্চ শিমন ওভারসিজ এক্সপ্রেস নামের একটি এজেন্সির প্রতিনিধি মো. ইয়াকুবের মাধ্যমে তিন লাখ টাকা খরচে রায়গঞ্জ উপজেলার শ্যামগোপ গ্রাম থেকে ওমরা করতে রওনা হয়েছিলেন আজিজ খান। কিন্তু বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে সন্তানেরা আর বাবার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি। 

নিখোঁজ আজিজ খানের মেঝো ছেলে হাসেম খান বাংলাভিশনকে বলেন, আমার বাবাকে ইয়াকুব আলী যেদিন বাড়ি থেকে নিয়ে যান- তার পর থেকে এক মুহুর্তের জন্য আমরা কেউ বাবার সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। যতবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছি- ততবারই ইয়াকুব আলী নানান তালবাহানা করে সময় ক্ষেপণ করেছেন। এক পর্যায়ে তিনদিন পর বলতেছে আমার বাবা সৌদিতে হারিয়ে গেছেন। এরপর ১৫ দিন পর বললেন বাবা সৌদিতে মারা গেছেন। প্রশ্ন হল- বাবাকে বাড়ি থেকে নেওয়ার পর থেকে কেনো একবারের জন্য আমাদের কারো সঙ্গে কথা বলতে দেয়া হলো না? আদৌ কি বাবাকে সৌদি নিয়েছিল? নাকি বাবাকে টাকার লোভে মেরে ফেলা হয়েছে?

নিখোঁজ আজিজ খানের স্ত্রীর আশঙ্কা- হয়তো তার স্বামীকে মেরে ফেলা হয়েছে অথবা গুম করা হয়েছে। একই আশঙ্কা স্বজনদেরও। প্রতিবেশীরা বলছেন- ইয়াকুব আলী প্রতারণা করেছেন। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তারা।

নিখোঁজ আজিজ খানের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অধিশাখার যুগ্ম সচিব মো. মঞ্জুরুল হক। তিনি বাংলাভিশনকে বলেন, আজিজ খানের ঘটনা তদন্তে আমরা কাজ করছি। ইতিমধ্যে ইয়াকুব আলীকে জবাব দিতে ডাকা হয়েছে। আগামী ৭ তারিখে তাকে নিয়ে শুনানী আছে। সে বর্তমানে সৌদিতে আছে। দেশে ফিরলে ঘটনার রহস্য উদঘাটন হবে বলে আশা করি।

এই ঘটনায় শিমন ওভারসিজের মালিক মীর আহম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ব্যস্ততা দেখিয়ে বিয়ষটি এড়িয়ে যান তিনি। অন্যদিকে- ইয়াকুব আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্ত ইয়াকুব আলী পেশায় এক সময় নাপিতের কাজ করলেও বর্তমানে হাজীদেরকে সহযোগিতার কাজে নিয়োজিত। তবে এই কাজের মাধ্যমে রাতারাতি নিজের অবস্থার পরিবর্তন স্থানীয়দের মাঝে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই তার এই উত্থান তদন্ত করার দাবি স্থানীয়দের।

 

বিভি/এসএইচ

মন্তব্য করুন: