• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

যানজট নিরসনে দৃষ্টান্ত দেখাচ্ছেন টিআই অ্যাডমিন আতিক

প্রকাশিত: ২৩:১৪, ২৯ মার্চ ২০২৪

ফন্ট সাইজ
যানজট নিরসনে দৃষ্টান্ত দেখাচ্ছেন টিআই অ্যাডমিন আতিক

ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আতিক মাহমুদ রূপম

রাজধানী ঢাকার অন্যতম সমস্যার নাম যানজট। বিভিন্নভাবে যানজট নিরসনের চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সর্বদা সর্বোচ্চটা নিয়োজিত করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। তবুও যেন মিলছে না প্রতিকার। তবে এসবের ভিড়েও ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে মোহাম্মদপুরের রিং রোড জাপান গার্ডেন সিটি এলাকায়। পুরোনো যানজটের চিত্র সেখানে উধাও। নেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকার ভোগান্তি। আর এসবের নেপথ্যে রয়েছেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আতিক মাহমুদ রূপম, যিনি তেজগাঁও ডিভিশনের টিআই এডমিনের দায়িত্ব পালন করছেন।

গত ২৫ মার্চ, ১৪ রমজান। শান্তিনগর থেকে মোহাম্মদপুর জাপান গার্ডেন সিটি যাবেন বলে মিসেস সাহিদা সিএনজি খুঁজতে দাঁড়ান শান্তিনগর মোড়ে। তখন দুপুর দুইটা। মিসেস সাহিদা যাবেন ইফতারের দাওয়াতে আত্মীয়ের বাসায়। বাড়ীর লোকজন সবাই তাকে এই ধারণা দিয়েছে যে, মোহাম্মদপুর মানেই যানজটের জালে আটকে থাকা। বিশেষ করে রিং রোড সবচেয়ে ভয়াবহ এলাকা। ফলে ৬.১২ তে ইফতার হলেও তিনি চার ঘণ্টা আগেই বাসা থেকে বের হন। শুধুমাত্র মোহাম্মদপুরেই নাকি এক ঘণ্টা জ্যামে আটকে থাকতে হয়। যার কারণে সেভাবে প্রস্তুতি নিয়েই তিনি রাস্তায় বের হন।

রাস্তায় এসে জাপান গার্ডেন সিটি বলতেই সহজে সিএনজি পেয়ে যান তিনি। এত সহজে সিএনজি ড্রাইভার জাপান গার্ডেন সিটি যেতে রাজি হয়ে যাবেন মিসেস সাহিদা আশা করেননি। সঙ্গে থাকা ছেলে সিয়ামও মায়ের দিকে অবাক হয়ে তাকাচ্ছিলেন।  বিস্ময়ের এখানেই শেষ নয়। মাত্র এক ঘণ্টায় পৌঁছে যান মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ মোড়। রীতিমতো বিস্মিত হন তিনি। এক ভিন্ন চিত্র চোখে পড়ে তার। পুরো রিং রোড জুড়ে জ্যাম থাকতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা। প্রতি রমজানে এটাই ছিলো রিং রোডের দৃশ্যপট। কিন্তু এই রমজানে এক ভিন্ন বাস্তবতা এসে চোখের সামনে দাঁড়ায়। সারি সারি যান চলছে, কোথাও দুঃসহ যানজটের চিত্রটি নেই। নেই ইফতারের আগে বাসায় পৌঁছানো নিয়ে আতঙ্ক।

ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আতিক মাহমুদ রূপম বলেন, চীনের দুঃখ যেমন ছিলো হোয়াংহো তেমনি মোহাম্মদপুরের দুঃখ ছিলো জাপান গার্ডেন সিটির সামনের যানজট। সেই যানজট নিরসন করতে পারা অবশ্যই তেজগাঁও ট্রাফিক ডিভিশনের জন্য একটি ইতিবাচক ঘটনা। তবে কৃতিত্ব আমার একার নয়। এসি ট্রাফিক মোহাম্মদ ইমরুল এবং ডিসি ট্রাফিক মোস্তাক আহমেদ স্যারের বিশেষ সহযোগিতা না থাকলে এটি সম্ভব হতো না।

তিনি আরও বলেন, রমজানের আরও দুই একমাস আগে থেকেই আমরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে একাধিকবার মিটিং করে কমিউনিটি পুলিশিংকে ডেভেলপ করি। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে মোহাম্মদপুরের এই এলাকাটি বেড়িবাঁধ সংলগ্ন হওয়ায় বেড়িবাঁধ পরবর্তী অসংখ্য আবাসিক এলাকার লোকজন রিং রোডকে বাইপাস রোড হিসেবে ব্যবহার করে। ফলে লিমিটেড, সোসাইটি, নবোদয়, শেখেরটেক, মনসুরাবাদ যানজটে ভরে উঠে। আবার রিং রোড ও তার ডান পাশের তাজমহল রোড, নূরজাহান রোড, কৃষি মার্কেট, সূচনা এবং উত্তর পাশে হকের মোড়ে এক তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতো। ফলে ইফতারের আগে বাড়ি পৌঁছানো ছিলো অনিশ্চিত ঘটনা। আমরা সেই অনিশ্চয়তাকে নিশ্চয়তা দিতে চেয়েছি।

আতিক মাহমুদ মনে করেন, সুশৃঙ্খল জাতির প্রথম প্রতিচ্ছবি সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থা। দেশের মানুষ ট্রাফিক আইন মেনে চললেই সুশৃঙ্খল জাতি গড়ে উঠবে। আর স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গড়ে উঠবে স্মার্ট নগরী, তারপর স্মার্ট বাংলাদেশ।

পবিত্র মাহে রমজানের শুরু থেকেই মোহাম্মদপুরের পরিবর্তিত দৃশ্য লক্ষণীয়। কমিউনিটি ট্রাফিকের ২৭ জনের একটি বিশেষ টিম নিয়ে কাজ করছেন টিআই আতিক মাহমুদ। তাদেরকে দক্ষ করে গড়ে তোলার কৃতিত্বও তার। ছোট ছোট টিমকে তিনি পাঠিয়ে দেন মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় এবং নিজেও মুহূর্তে পৌঁছে যান, যান দুর্গত স্পটে।

শুধু তাই নয়, রমজান মাসে মোহাম্মদপুর এলাকায় সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, তিতাসের রাস্তা খনন করে সংস্কার কাজ বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা- যেন রাস্তা খননের ফলে বাড়তি যানজটের সৃষ্টি না হয়। যা তদারকি এবং সমন্বয়ের যথাযথ দায়িত্ব পালন করছেন টিআই আতিক মাহমুদ। সশরীরে উপস্থিত হন সব জায়গায়। তাই রাস্তার উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নির্মাণ সামগ্রী, বিক্রয় পণ্য, হকার অবৈধ পার্কিং বলা চলে রীতিমতো উধাও। এলোপাথাড়ি বাস পার্কিংও বন্ধ হয়েছে।

ইফতারের পুরো সময়টা জুড়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক বিভাগের প্রত্যেকেই মাঠে থাকেন যানজট নিরসনে। তাইতো পবিত্র রমজান মসে স্বস্তি ফিরেছে মোহাম্মদপুর এলাকার কর্মজীবী মানুষদের মাঝে। তারা সময়মতো বাসায় ফিরে ইফতার করতে পারছে পরিবারের সঙ্গে।

মোহাম্মদ শামীম হোসেন, লিমিটেড ৬ নং রোডে বসবাসকারী। তিনি বলেন, আগে ইফতারে বাসায় ফেরা নিয়ে একটা টেনশন কাজ করতো এখন আর সেটা হয় না। আতিক ভাইকে রাস্তায় দেখলেই বুঝতে পারি, নিশ্চিন্তে বাসায় ফিরে ইফতার করতে পারবো- যানজটের ভয় নেই।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: