• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬

পদত্যাগ করলেন এনসিপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া নীলিমা দোলা

প্রকাশিত: ২০:৪৮, ৩ জানুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
পদত্যাগ করলেন এনসিপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া নীলিমা দোলা

ছবি: সৈয়দা নীলিমা দোলা (সংগৃহীত)

‘আমি দলটির নেতাদের বলতে চাই, ধর্মীয় রাজনীতিকে ফ্রন্টে এনে পলিটিক্স খেলার জন্য শহীদেরা জান দেননি। আপনাদের মনে করিয়ে দেওয়া দরকার, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে কোনো ধর্মীয় বিপ্লব বা অভ্যুত্থান হয়নি। এছাড়া জামায়াতের সঙ্গে জোট কৌশল নয়, প্রতারণা।’

দলের আহ্বায়ককে উদ্দেশ্য করে উল্লেখিত কথাগুলি স্মরণ করিয়ে দিয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন সৈয়দা নীলিমা দোলা।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকাল ৪টার দিকে তিনি তার ফেসবুক আইডিতে এ পদত্যাগপত্র প্রকাশ করেন।

নীলিমা দোলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা সমন্বয় কমিটির সংগঠক ছিলেন। পাশাপাশি ফরিদপুর জেলা এনসিপির ১ নম্বর সদস্য ছিলেন। গত ১০ ডিসেম্বর তাকে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে মনোনয়ন দেয় এনসিপি। তবে তিনি নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। এখানে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন আব্দুত তাওয়াব।

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ককে লেখা ৫০৫ শব্দের ওই পদত্যাগপত্রে নীলিমা দোলা বলেন, আমি মনে করি এনসিপির পক্ষে এখন আর মধ্যপন্থি রাজনীতির নতুন পথ সৃষ্টি সম্ভব নয়। এতদিন আমি এনসিপির সঙ্গে ছিলাম, কারণ আমি মনে করেছিলাম দলটি জুলাই-পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। তবে সম্প্রতি দলটির নানা সিদ্ধান্তের পর আমার কাছে এটুকু স্পষ্ট, এই দলটি সম্পূর্ণভাবে ডানপন্থি ঘরানায় ঢুকে পড়ছে এবং সেই ধারার রাজনীতিকেই তারা পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে।

জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির যে নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট, তা কোনো কৌশলগত জোট নয়— মন্তব্য করে তিনি লেখেন, যদি হতো, তাহলে এত নেতাকর্মী পদত্যাগ কর না। দলের নেতাকর্মীদের চোখে ধুলো দিয়ে এই জোট করা হয়েছে এবং মনোনয়ন দেওয়ার নাম করে তীব্র প্রতারণা করা হয়েছে। যারা পদত্যাগ করছেন, তাদের বামপন্থি বলে ফ্রেমিং করাটাও একটা গেইম প্ল্যানেরই অংশ বলে আমি মনে করি। কেননা এতে করে জামায়াতের কাছে দল বিক্রি করা সহজ।

এনসিপিতে আসার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নীলিমা দোলা বলেন, আমি এনসিপিতে আসার আগেও রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্পেসে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ করেছি। এনসিপিতে আসার পরেও করেছি। সুতরাং দলের সঙ্গে আদর্শিক জায়গা ছাড়া আমার আদান-প্রদান খুবই সীমিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, আমার মতো কর্মীকে ধরে রাখার সামর্থ্য এনসিপির এখন আর নেই।

তিনি বলেন, আমি এও মনে করি যে, জুলাইয়ের জনতার কাছে এনসিপির অনেক দায় রয়েছে। অভ্যুত্থানের পর এনসিপির ওপর বাংলাদেশের মানুষ যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছিলো, তা বিগত কয়েক মাসে চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে। আমি মনে করি, আসন্ন কঠিন সময়ে জনতা এনসিপিকে এর সমুচিত জবাব দেবে।

এনসিপির ভেতরে তীব্র লড়াই চালিয়ে গেছেন দাবি করে নীলিমা বলেন, এনসিপির ভেতরে থেকেই আমি তীব্র লড়াই চালিয়ে গেছি। দলটা যেন সেন্ট্রিস্ট অবস্থানে থাকে, সে জন্য নারী, শিশু, শ্রমিক, আদিবাসী, হিজড়া, হিন্দু, মাজারকেন্দ্রিক জনগণকে এক করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু গত দেড় বছরজুড়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রায় সব ঘরানার প্রান্তিক মানুষের ওপর চলা অনিয়ন্ত্রিত অনাচার ও নির্যাতন নিয়ে প্রতিবাদ জানানোর ব্যাপারে গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত এই ‘তারুণ্যনির্ভর’ দলকে অন্তত পাঁচ দিন করে ভাবতে হয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের মনমরা ও দায়সারা প্রতিবাদ আমার রাজনৈতিক অভিপ্রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং দেশের আপামর মানুষের জন্যও তা হতাশার।

এনসিপির বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে সৈয়দা নীলিমা দোলা বলেন, রাজনৈতিক প্রয়োজনে নেগোসিয়েশন বা দফারফা সবাই বা বেশির ভাগ দল করলে করুক, এনসিপির জন্য তা নিতান্ত বেমানান। কারণ এনসিপি হাজারো জুলাই শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করতে এসেছিল। আমি দলটির নেতাদের বলতে চাই, ধর্মীয় রাজনীতিকে ফ্রন্টে এনে পলিটিক্স খেলার জন্য শহীদেরা জান দেননি। আপনাদের মনে করিয়ে দেওয়া দরকার, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে কোনো ধর্মীয় বিপ্লব বা অভ্যুত্থান হয়নি।

বিভি/এআই

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত
Drama Branding Details R2
Drama Branding Details R2