একটি আবদার নিয়ে এসেছি, আপনাদের জন্য কাজ করতে চাই: ইশরাক হোসেন
এলাকাবাসীর কাছে অনুরোধ জানিয়ে ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেছেন, আমার জীবন দেশ ও জাতির কল্যাণে উৎসর্গ করেছি। তাই, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে একটি সুযোগ দিন। এলাকার সন্তান ও আপনাদের একজন ভাই হিসেবে আমি আপনাদের সামনে এসেছি একটি দাবি ও আবদার নিয়ে। আমি আপনাদের জন্য কাজ করতে চাই।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর ওয়ারীর ৩৮নং ওয়ার্ডে তৃতীয় দিনের নির্বাচনী প্রচারণার আগে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, রাজনীতিকে দেশ ও জাতির কল্যাণের মাধ্যম হিসেবে নিয়েছি এবং একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, নগরীর বহুমুখী সমস্যার মধ্যে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি জর্জরিত। তীব্র গ্যাস সংকট। গ্যাসের চাপ না থাকায় গৃহিণীরা রান্নাবান্না করতে পারছেন না। সকালবেলায় শিশুদের স্কুলের টিফিন তৈরি করা যাচ্ছে না। অনেক পরিবারকে রাত দুইটা-তিনটার সময় উঠে পরদিনের রান্না করতে হচ্ছে। ফলে, পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে এবং বাইরে থেকে খাবার কিনতে বাধ্য হওয়ায় বাড়ছে ব্যয়। এলাকার রাস্তাঘাট দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না করায় ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। হাঁটাচলা ও যান চলাচল প্রায় অযোগ্য হয়ে উঠেছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে সড়ক মেরামত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল না করলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে।
পরিবেশ দূষণের বিষয়ে তিনি বলেন, এলাকায় সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় পরিবেশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিষাক্ত বাতাসে শিশুদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি নির্বাচিত হলে সংসদ সদস্য হিসেবে এসব সমস্যার সমাধানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জোরালো পদক্ষেপ নেবেন এবং প্রয়োজনে সংসদে বিষয়গুলো উত্থাপন করে সরকারের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।

ইশরাক হোসেন বলেন, এলাকায় মাদকের প্রকোপ বেড়েছে, অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলে চাঁদাবাজি হচ্ছে, যত্রতত্র গণপরিবহন পার্কিং করে ফুটপাত দখল করা হচ্ছে। এতে যানজট বেড়ে জনগণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তিনি আশ্বস্ত করেন, নির্বাচিত হলে অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ করে নির্দিষ্ট স্থানে গণপরিবহন পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করবেন, যাতে জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাস্তা নিশ্চিত করা যায়।
তিনি আরও বলেন, বাস রুট র্যাশনালাইজেশন ছাড়া যানজট নিরসন সম্ভব নয়। এছাড়া বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মনোরেল নির্মাণ আরও যুক্তিসঙ্গত হতো। ঢাকার জন্য মনোরেল বা পুরান ঢাকার ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ রেল অধিক উপযোগী হতে পারে, যদিও তা ব্যয়বহুল। ভবিষ্যতে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাবি তোলা হবে।
এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে ইশরাক হোসেন বলেন, আমরা আন্দোলন-সংগ্রামে একসঙ্গে ছিলাম, জেল খেটেছি, রাজপথে গুলির মুখে দাঁড়িয়েছি। আগামী দিনেও একসঙ্গে দাঁড়িয়ে একটি বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলব।
এসময় তিনি তার বাবার জন্য এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া চান। এ সময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, ওয়ার্ড বিএনপি এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: