• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

এবার বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত

প্রকাশিত: ২২:৩৬, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২৩:০৩, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
এবার বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত

ছবি: নিহত রেজাউল করিম (সংগৃহীত)

শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষের ঘটনায় ঝিনাইগাতী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম মারা গেছেন।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১০টায় তিনি মারা যান। এর আগে, বিকালে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এ সহিংসতায় অন্তত দুই শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সংঘর্ষে দুই সাংবাদিকসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের প্রার্থীদের উপস্থিতিতে ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়াম মাঠে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানে জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের সমর্থকেরা আগে থেকেই মঞ্চের সামনে আসন গ্রহণ করেন। পরে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের সমর্থকেরা মাঠে পৌঁছালে বসাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রথম দফার সংঘর্ষের পর সন্ধ্যার দিকে জামায়াত প্রার্থী তার সমর্থকদের নিয়ে স্টেডিয়াম এলাকা থেকে বাজারের দিকে যেতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধা দেয়। বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করলে দ্বিতীয় দফায় আরও বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম রাত ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ঘটনার পর রাতে জেলা জামায়াতে ইসলামী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন এবং জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানায়। পরে মাইসাহেবা মসজিদ থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করে সংগঠনটি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম রাসেল গণমাধ্যমকে বলেন, চেয়ার নিয়ে বসাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান ভূঞা গণমাধ্যমকে বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এখনও কোনো পক্ষ মামলা করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিলো।

বিভি/এআই

মন্তব্য করুন: