• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

পাম্প থেকে জ্বালানি গায়েব, বহিষ্কার করা হলো বিএনপি নেতাকে

প্রকাশিত: ১৯:১৮, ৮ এপ্রিল ২০২৬

ফন্ট সাইজ
পাম্প থেকে জ্বালানি গায়েব, বহিষ্কার করা হলো বিএনপি নেতাকে

ছবি: সংগৃহীত

দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে প্রায় ৫০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল গায়েব হওয়ার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকালে সাড়ে ৪টার দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হাফেজ আজিজুল হককে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার গণমাধ্যমকে জানান, কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই বহিষ্কার কার্যকর করা হয়েছে।

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া বাজারে অবস্থিত হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন।

এ সময় ভৈরব বাজার ডিপো থেকে সরবরাহকৃত চালান ও নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে।

তবে মজুত ও বিক্রির হিসাব চাইলে স্টেশন ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাত গণমাধ্যমকে সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, গত ৩ এপ্রিল মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল এসেছে। বাকি তেলের কোনো রেকর্ড তার কাছে নেই।

তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে প্রশাসনের সন্দেহ আরও বাড়ে। পরে স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুত এবং কালোবাজারির প্রমাণ পাওয়া যায়। মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫০ থেকে ৫৮ হাজার লিটার তেলের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় মো. আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ওই মামলায় স্টেশন ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাতকে গ্রেফতার করেছে।

এদিকে সদ্য বহিষ্কৃত হাফেজ আজিজুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেন, তেল মজুত বা কালোবাজারির অভিযোগ সঠিক নয়। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিকভাবে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য এ ঘটনা সাজিয়েছে।

বিভি/এআই

মন্তব্য করুন: