রংপুরে ১১ দলের লং মার্চের সমাপনী সমাবেশে টাঙানো হয়েছে ২০০ মাইক
প্রস্তুত মঞ্চ, আসছেন নেতা-কর্মীরা
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারসহ আট দাবিতে রংপুরে ১১ দলের লং মার্চের সমাপনী সমাবেশকে ঘিরে প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। মাঠসহ আশেপাশের সড়কে টাঙানো হয়েছে দুইশো মাইক।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই সমাবেশস্থলের আশপাশে ও নগরীর বিভিন্ন সড়কে নেতা-কর্মীদের আনাগোনা বেড়েছে। এতে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় সরব পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাপনী সমাবেশে ১১ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেবেন। সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছেন তারা। পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা থেকে এসেছেন মাইদুল ইসলাম। তিনি জানান, দেরি করে আসলে সামনে জায়গা পাওয়া নাও যেতে পারে। এজন্য গতকাল রাতে বোদা থেকে রংপুরে এসেছেন। এক আত্মীয়ের বাসায় ছিলেন।
আজ ১২ টার দিকে সমাবেশস্থলে এসে উপস্থিত হয়েছেন। সমাবেশের সাউন্ড সিস্টেমের দায়িত্বে থাকা নাজমুল ডেকোরেটরের কর্মী অমূল্য চন্দ্র রায় বলেন, এই সমাবেশ ঘিরে দুশো মাইক টাঙানো হয়েছে। এরমধ্যে মাঠে রয়েছে ৮০টি এবং মাঠের বাইরে বিভিন্ন সড়কে ১শ' ২০ টি মাইক টাঙানো হয়েছে।
অমূল্য বলেন, ইতোমধ্যে মঞ্চ তৈরি ও মাইক টাঙানোর কাজ শেষ হয়েছে। জানতে চাইলে সমাপনী সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির রংপুর মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, আট দাবিতে ১১ দলীয় জোটের যে লং মার্চ সেটি আজ সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এ্যাভিনিউ থেকে যাত্রা শুরু করেছে। লং মার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে।
সেখানে জামায়াতে ইসলামীর আমির জাতীয় সংসদের বিরোধীদল নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।
ইতোমধ্যে মঞ্চ প্রস্তুতসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময় বিকেল পাঁচটায় সমাবেশর মূল কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করি।
এবার এই লং মার্চ ও সমাবেশ ঘিরে রংপুর বিভাগের আট জেলা থেকে অন্তত পাঁচ লাখ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেন আব্দুল মালেক। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুর লং মার্চ করছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দল।
এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চে ছয় দফা দাবি সামনে রেখেছিল ১১ দল। দাবিগুলো ছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেল-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ। রংপুরের কর্মসূচিতে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি। অর্থাৎ জাতীয় রাজনীতির বিষয়গুলোর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের একটি আঞ্চলিক ইস্যুকেও সামনে এনেছে জোট।
জোটের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের মানুষের দাবিকে বিবেচনায় নিয়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে কর্মসূচির অংশ করা হয়েছে।
বিভি/এআই













মন্তব্য করুন: