আ. লীগের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের অর্থ নাশকতায় ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, ভাবতে হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
গণহত্যায় জড়িত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর একটি মহল অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার অপচেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলের আগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘খুনি হাসিনা পালিয়ে গেছে, তার নেতা-কর্মীরাও পালিয়ে গেছে। কিন্তু তাদের রেখে যাওয়া বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পরিবহন ও এ ধরনের প্রতিষ্ঠান এখন কারা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সেখান থেকে অর্জিত অর্থ নাশকতা ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, সেটি এখন আমাদের ভেবে দেখার সময় এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা পতিত ফ্যাসিবাদের পাহারাদার হওয়ার জন্য রাজনীতি করি নাই।’
বিরোধী দলের প্রসঙ্গ তুলে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আজকে আমাদের যারা বিরোধী দলের অবস্থানে রয়েছে, ’৭১-এ যারা বাংলাদেশকে অস্বীকার করেছিল, সেই ঘাতক-দালাল-রাজাকাররা বাংলাদেশ চায় নাই। কিন্তু যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিরোধী দলের আসন গ্রহণ করেছে, আমরা তাদের ততটুকু সম্মান দিতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা লক্ষ্য করবেন, তারা লং মার্চের নামে গাড়ি নিয়ে শোভাযাত্রা করছে। কিন্তু কোথাও এই ফ্যাসিবাদী খুনি আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো বক্তব্য তাদের মঞ্চ থেকে আসেনি।’
ইশরাক বলেন, ‘দুই দিন আগে ১১ দলীয় জোটের একজন তরুণ নেতা যে ভাষায় আমাদের আজকের জনমানুষের নেতা, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, সেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছি বিধায় অনেক সংযত ভাষায় বলছি। না হলে আজকে অন্য ভাষায় তাকে এই জবাবগুলো দিতাম।’
বিরোধী দলের নেতাদের উদ্দেশে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আপনারা বলেন, তারেক রহমান কোন পথে ক্ষমতা ছাড়বে। সেই প্রশ্ন আপনারা করেন। আপনাদের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ বাংলাদেশের জনগণ ঘৃণায় প্রত্যাখ্যান করেছে।’
তিনি বলেন, ‘একদিকে যারা বিরোধী দল, তারা আমাদের পতনের জন্য আন্দোলন করছে বলে তারা বলে। অন্যদিকে পলাতক খুনি স্বৈরাচারী হাসিনা দিল্লিতে বসে নাশকতার মাধ্যমে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের রাষ্ট্রকে, আমাদের সরকারকে অস্থিতিশীল করে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। তাহলে কি এটা প্রমাণ হয় না, তাদের মধ্যে একটা যোগসাজশ হতে পারে? আমি মনে করি, এটা হতে পারে এবং এটা হলে অবাক হওয়ার কোনো কিছু থাকবে না।’
সরকার পরিচালনার পাশাপাশি রাজপথে দলের নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব পালনের কথা তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমাদের আজকের প্রধানমন্ত্রী গতকালকে আমাদের সকলকে নিয়ে মিটিং করেছেন এবং আমাদের যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, সেটি আমি আপনাদের মাঝে পৌঁছে দিতে চাই। তাঁর কথা খুব স্পষ্ট। আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আছি। সেখানে পুলিশ রয়েছে, বিভিন্ন রাষ্ট্রযন্ত্র রয়েছে।’
‘আমাদেরকে ভুলে গেলে চলবে না, আমরা রাজপথের লড়াই-সংগ্রাম করে রাজনীতির মাধ্যমে আজকের এই অবস্থানে এসে পৌঁছেছি। আমরা যারা রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আজকে আমাদের দলকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়ে এসেছে, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাব।’
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমি তো এই যে আমার থানার ওসিকে ফোন করে বলছি, মিয়া, ৫ তারিখের পরে তো আমরা আপনাদের বসায় দিয়ে আসছি। এখন কেন আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করছেন না? আপনারা চা, সিগারেট, বিড়ি খেয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু প্রত্যেকটা এলাকায় পদধারী ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা ঘোরাফেরা করছে। আপনারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।’
তিনি বলেন, ‘তাদের নামে মামলা নাই, ঠিক আছে, লাগবে না। আমরা জিয়ার সৈনিকেরা রাজপথে অবস্থান করে আমাদের করণীয় সেটা আমরা করব, ইনশাআল্লাহ।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতাদের প্রশংসা করে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সংগ্রামী আহ্বায়ক, সংগ্রামী সদস্যসচিবকে। দীর্ঘদিন পর রাজপথে আমরা অবস্থান করার মাধ্যমে, আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল করার মাধ্যমে আমাদের প্রাণ ফিরে পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সচিবালয়ে বসে থাকতে, পার্লামেন্টে বসে থাকতে ভালো লাগে না। রাজপথে রাজনীতি করে জনগণের কল্যাণ সাধনের মাধ্যমে আমরা রাজনীতি করে যাব, ইনশাআল্লাহ।’
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আগামী দিনে যে কোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে বিদায় নিচ্ছি।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, ঢাকা মহানগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
বিভি/টিটি













মন্তব্য করুন: