জেনে নিন, জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময়টি কখন
ছবি: সংগৃহীত
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি দিন। এ দিনের রয়েছে বিশেষ মর্যাদা ও নানা আমল। তবে জুমার দিনের এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার আশা করা যায়। হাদিসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেই সেই সময়ের কথা জানিয়েছেন। কিন্তু কখন সেই সময়? এ নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে রয়েছে নানা প্রশ্ন।
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে তিনি তাকে তা দান করেন।
সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, কোনো মুসলিম বান্দা সে সময়ে নামাজ আদায়রত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন।’
এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে জানান, সময়টি খুবই সংক্ষিপ্ত। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৯৩৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৫২)।
তবে সেই বিশেষ সময়টি কখন, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মত বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ।
আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগপর্যন্ত
অনেক সাহাবি ও আলেমের মতে, জুমার দিনের দোয়া কবুলের বিশেষ সময়টি হলো আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত।
হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন বারো ঘণ্টা। এ দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে তিনি তাকে তা দান করেন। তোমরা দিনের শেষ সময়ে তা অনুসন্ধান করো, আসরের পরের সময়ে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ১০৪৮; সুনানে নাসায়ি, হাদিস ১৩৮৯)।
খুতবা শুরু থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত
আরেকটি প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, ইমাম মিম্বরে বসার পর খুতবা শুরু হওয়া থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়টিও দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এই সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।(সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৫৩)।
জুমার দিনে কীভাবে দোয়া করবেন?
জুমার দিনের এই বিশেষ সময়গুলোতে বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করা যেতে পারে। নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া, বাবা-মা ও পরিবারের কল্যাণ কামনা, হালাল রিজিক, সুস্থতা এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিত।
আলেমদের মধ্যে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় নিয়ে মতভেদ থাকায় আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এবং খুতবা ও নামাজের সময়, উভয় সময়েই দোয়া করার সুযোগ কাজে লাগানো উত্তম।
তাই সপ্তাহের এই ফজিলতপূর্ণ দিনটিতে শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে আল্লাহর স্মরণ, দরুদ পাঠ, ইস্তিগফার ও দোয়ায় সময় কাটানোর চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কল্যাণকর।
বিভি/এনএইচ













মন্তব্য করুন: