জাহান্নাম থেকে বাঁচতে জরুরি ৭ আমল
ছবি: সংগৃহীত
জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া প্রত্যেক মুমিনের অন্যতম বড় আকাঙ্ক্ষা। আর এ মুক্তির জন্য দুনিয়ার জীবনেই প্রস্তুতি নিতে হবে। নিয়মিত নামাজ আদায়, তওবা-ইস্তিগফার, দান-সদকা ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে জাহান্নাম থেকে বাঁচার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।’ (সুরা আত-তাহরিম, আয়াত: ৬)
জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচতে তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশনা মেনে চলা। জেনে নেওয়া যাক, জাহান্নাম থেকে বাঁচতে যে ৭টি আমল করবেন:
১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা
জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে আরেক জুমা এবং এক রমজান থেকে আরেক রমজান মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারা হয়, যদি কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা যায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩৩)
২. বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করা
মানুষ মাত্রই ভুল করে। তবে ভুলের পর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করো।’ (সুরা আত-তাহরিম, আয়াত: ৮)
তাই প্রতিদিন নিজের গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প করতে হবে এবং মানুষের হক নষ্ট করে থাকলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে।
৩. জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় চেয়ে দোয়া করা
জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে নিয়মিত দোয়া করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে—
আরবি: اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।
৪. সামর্থ্য অনুযায়ী দান-সদকা করা
দান-সদকা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো, যদিও অর্ধেক খেজুর দান করার মাধ্যমে হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৪১৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০১৬)
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, দানের পরিমাণ কম হলেও আন্তরিকতার সঙ্গে তা করা গুরুত্বপূর্ণ।
৫. কবিরা গুনাহ ও হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকা
জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে ভালো কাজের পাশাপাশি গুনাহ থেকেও বেঁচে থাকতে হবে। মিথ্যা বলা, গিবত করা, সুদ খাওয়া, অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ, জুলুম ও মানুষের অধিকার নষ্ট করার মতো কাজ পরিহার করতে হবে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন পাপ পরিত্যাগ করো।’ (সুরা আল-আনআম, আয়াত: ১২০)
৬. মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করা
ইসলামে মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারও মনে কষ্ট দেওয়া, অন্যায়ভাবে কাউকে অপমান করা কিংবা দুর্বল মানুষের ওপর জুলুম করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০)
৭. জান্নাত প্রার্থনা ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়া
একজন মুমিনের উচিত নিয়মিত আল্লাহর কাছে জান্নাত কামনা করা এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তিনবার আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করে, জান্নাত তার জন্য দোয়া করে। আর যে ব্যক্তি তিনবার জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চায়, জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য তার পক্ষে দোয়া করা হয়। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৫৭২)
জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি থেকে বাঁচতে শুধু মুখে মুক্তি কামনা করলেই হবে না, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। নিয়মিত নামাজ আদায়, তওবা-ইস্তিগফার, দান-সদকা, মানুষের হক আদায় এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে হবে। একই সঙ্গে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার প্রত্যাশা রাখতে হবে।
বিভি/এনএইচ













মন্তব্য করুন: