• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬

রাজবাড়ীতে হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও ৬ জনের যাবজ্জীবন

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৪৫, ২৭ জানুয়ারি ২০২৫

ফন্ট সাইজ
রাজবাড়ীতে হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও ৬ জনের যাবজ্জীবন

রাজবাড়ীর পাংশায় বালুর ব্যবসাকে কেন্দ্র করে শাফিন খান শফিকে (৪০) হত্যার ঘটনায় ২ জনের মৃৃত্যুদণ্ডাদেশ ও অনাদয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং  ৬ জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সিনিয়র দায়রা জজ মোসাম্মৎ জাকিয়া পারভীন এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন, কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার আমবাড়ীয়া বরইপাড়া গ্রামের মৃত ছালাম মোল্লার ছেলে আরিফ মোল্লা (২৫), একই গ্রামের মৃত ইব্রাহিম প্রামানিকের ছেলে রুহুল আমিন প্রামানিক। এর মধ্যে আরিফ মোল্লা পলাতক রয়েছেন।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলা সেনগ্রাম গ্রামের মুরাদ আলি মন্ডলের ছেলে সামাদ মন্ডল, একই গ্রামের মো. শাজাহান প্রামাণিকের ছেলে মো.ওয়াহেদ আলী প্রামানিক, পাবনা জেলার সদর উপজেলার কণ্ঠগজরার চরের আকাই কাজির ছেলে রশিদ কাজী, কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া বড়ইপাড়া গ্রামের আ. ছাত্তার মোল্লার ছেলে রাজিব মোল্লা (২৩), একই গ্রামের মো. আবুল হোসেনের ছেলে মো. সবুজ মোল্লা (২১), ও মৃত মোতালেব মোল্লার ছেলে মো. সাগর মোল্লা(২০)। এর মধ্যে রশিদ কাজি পলাতক রয়েছেন।

এছাড়াও সেলিম রানা, রতন মোল্লা ও সুমনের অপরাধের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস প্রদান করে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শাফিন খান শফি দীর্ঘ ১৮ বছর চাকরী করে বাড়িতে ফেরে। বাড়িতে এসে ২০১৭ সাল থেকে পাংশায় মাটি ও বালির ব্যবসা শুরু করে। সে বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি কিনে ইটভাটায় দিতে থাকে। মাটি ও বালির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে শাফিনের সাথে কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার কয়েকজনের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। ২০১৭ সালে ১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৫টার দিকে শাফিন খানকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ডেকে নিয়ে যায়। পরদিন বিকালে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকরী আখ ক্ষেতের মধ্যে শাফিনের মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর শাফিনের ভাই মো. ফরিদ হাসান খান বাদী হয়ে রাজবাড়ীর পাংশা মডেল থানায় একটি ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পাংশা থানার মামলা নং-৬। দীর্ঘদিনের বিচার প্রক্রিয়া শেষ বিজ্ঞ আদালত এই রায়ের আদেশ দেন।

রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দীর্ঘদিনের বিচারকাজ শেষে বিজ্ঞ আদালত ২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৬ জন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। অপর একটি ধারায় তাদের প্রত্যেককে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দণ্ডিত করা হয়েছে। এ রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রায়ের সময় মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি আরিফ মোল্লা ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী রশিদ মোল্লা ব্যাতিত সকল আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

দন্ডাদেশ প্রদানের ৭ দিনের মধ্যে সাজাপ্রাপ্তরা মাহামান্য হাইকোট বিভাগে আপীল করতে পারবেন বলে রায়ে উল্লেখ আছে।

বিভি/এসজি

মন্তব্য করুন: