৬ দফা দাবি
দ্বিতীয় দিনে শহীদ মিনারে স্বাস্থ্য সহকারীদের অবস্থান, সারাদেশে বন্ধ টিকাদান
নিয়োগবিধি সংশোধন, বেতন বৈষম্য নিরসন ও টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদানসহ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা। এই কর্মসূচির ফলে সারাদেশের বন্ধ রয়েছে টিকাদান সেবা।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) থেকে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সারা দেশের ২৬ হাজার স্বাস্থ্য সহকারীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ হেলথ্ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশনের ব্যানারে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন দেশের ৬৪ জেলার স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা।
স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতির ফলে সারা দেশে ১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রে মধ্যে প্রতিদিন ১৫ হাজার কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত টিকাদান সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। যার ফলে টিকা গ্রহণসহ সেবা থেকে বঞ্ছিত হচ্ছেন মা ও শিশুরা।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল থেকে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দ্বিতীয় দিনে মতো অবস্থান কর্মসূচিতে দেশের ৬৪ জেলা থেকে হাজার হাজার স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা ব্যানার, ফেষ্টুন ও মনিপাতা নিয়ে দলে দলে অংশ নেই শহীদ মিনারে।
শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকে তারা এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন, যা চলবে অনির্দিষ্টকালের জন্য। এ অবস্থান কর্মসূচি অনেকেই হাতে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন মনিপতাকা ধরে রেখেছেন, যেখানে দাবি আদায়ের বিভিন্ন ম্লোগার লেখা রয়েছে।
স্বাস্থ সহকারীরা জানান, তাদের কাজের ফলে দেশে গড় আয়ু বৃদ্ধি হয়েছে এবং আন্তজার্তিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত সুপিরচিত লাভ করেছেন। এছাড়া ২০০৯ সালে ইমিউনাইজেশন কর্মসূচির সফলতার জন্য গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ভ্যাক্সিনেশন এন্ড ইমুনাইজেশন (গ্যাভী) কর্তৃক পেয়েছেন পুরস্কার, ২০১০ সালে ৫ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর হার দুই-তৃতীয়াংশ কমানোর জন্য জাতিসংঘের এমডিজি-৪ অ্যাওয়ার্ড, ২০১১ সালে শিশুমৃত্যু-মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর জন্য সাউথ সাউথ পুরষ্কার, ২০১২ সালের বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের ধারাবাহিকতায় (গ্যাভি) কর্তৃক টিকাদানকারী দেশের অ্যাওয়ার্ড, ২০১৪ সালে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার শ্রেষ্ঠ টিকাদানকারী দেশের অ্যাওয়ার্ড, ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক বাংলাদেশকে দিয়েছে পোলিও নির্মুলের সনদ, ২০১৬ সালে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) কর্তৃক বাংলাদেশকে পোলিও নির্মূলে সাফল্যের স্বীকৃতির সনদ, ২০১৬ সালে ধনুষ্টকার নির্মুলের সনদ অর্জন এবং ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ৭৪তম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ভ্যাক্সিনেশন এন্ড ইমুনাইজেশন (গ্যাভি) কর্তৃক শিশুদের টিকাদান কর্মসূচির ব্যাপক সাফল্যের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন ভ্যাকসিন হিরো সম্মাননা। অথচ, যাদের কাজের বিনিময়ে স্বাস্থ্য বিভাগের এই অর্জন ও গর্বিত আজ তারাই অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার।
স্বাস্থ্য সহকারীদের নেতারা জানান, তারা বহুবার কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনায় গিয়েছেন, কিন্তু ফল পাননি। এবার দাবি আদায়ের জিও (প্রজ্ঞাপন) না হওয়া পর্যন্ত শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচিতেই থাকবেন তারা। প্রয়োজনে তারা এখানে আত্মহুতি দিবেন। সকলে মনিপাতা দিয়ে দাফন হবেন। কিন্তু, দাবি আদায় না হওয়ার পর্যন্ত শহীদ মিনার ছাড়বেন না। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাবে।
তারা আরো বলেন, আমরা প্রান্তিক এ জনগোষ্ঠীকে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্ছিত করে এই কর্মবিরতিতে যেতে চাইনি, কর্মকর্তারা আমাদের এ অবস্থান কর্মবিরতি দিতে বাধ্য করিয়েছেন। আমাদের নিয়োগবিধিসহ বিভিন্ন দাবিতে পর্যায়ক্রমে আবেদন করা সত্ত্বেও এক একবার এক এক অজুহাতে কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে থামিয়ে দিয়েছে। এ পর্যন্ত ৫ বার আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করে তাদের কথা রেখেছি। কিন্তু, কর্মকর্তারা তাদের কথা রাখেনি। তাই, আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, এ কর্মসূচি দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। আমাদের যৌক্তিক ৬ দফা দাবি জিও (প্রজ্ঞাপন) আকারে প্রকাশ না হওয়ার পর্যন্ত আমাদের অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মবিরতি চলবে।
বিভি/পিএইচ




মন্তব্য করুন: