আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন বাবা, ১৩ মাস পর ফিরে পেলেন হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে
২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি রাজধানীর গেন্ডারিয়ার নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে পথ হারিয়ে ফেলেছিল ৭ বছরের শিশু মেহেদি। এরপর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ভুল করে উঠে পড়ে কক্সবাজারগামী একটি ট্রেনে। সেই থেকে শুরু হওয়া এক অনিশ্চিত যাত্রার অবসান ঘটল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি)। দীর্ঘ ১৩ মাস পর পরিবারের কোলে ফিরেছে শিশুটি।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারের ‘সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র’ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেহেদিকে তার বাবা তাইজুদ্দিন ও চাচা সাইফুল হকের হাতে তুলে দেয় কর্তৃপক্ষ।
পরিবার ও কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ট্রেনে করে কক্সবাজার পৌঁছানোর পর মেহেদি সেখানকার পথশিশুদের দলে মিশে যায়। ঘুরতে ঘুরতে একপর্যায়ে সে পৌঁছে যায় সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে। সেখানে একা কান্নাকাটি করতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। টেকনাফ থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করলেও মেহেদি নিজের নাম ছাড়া আর কোনো ঠিকানা বা ফোন নম্বর বলতে পারেনি। নিরুপায় হয়ে পুলিশ তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে কক্সবাজারের ‘সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে’ পাঠিয়ে দেয়।
সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্যারা-কাউন্সেলর সাবিনা ইয়াসমিন জানান, কেন্দ্রে আনার পর থেকেই মেহেদি সেখানে সবার প্রিয় হয়ে ওঠে। লেখাপড়া থেকে শুরু করে সব সুযোগ-সুবিধা থাকলেও সে সবসময় তার পরিবারের জন্য ব্যাকুল থাকত।
তিনি আরও জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহযোগিতায় এবং শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মীর মাধ্যমে চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮-এ যোগাযোগ করা হয়। এরপর ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদানের মাধ্যমে ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মেহেদির পরিবারের সন্ধান মেলে।
ছেলের ফিরে আসার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন বাবা তাইজুদ্দিন। তিনি বলেন, 'গত এক বছর ধরে ছেলেকে হন্যে হয়ে খুঁজেছি, কিন্তু কোথাও পাইনি। আশা ছেড়ে দিলেও মনে মনে একটা আকুতি ছিল। ১০৯৮ নম্বরের মাধ্যমে ছেলেকে ফিরে পাব, এটা ভাবিনি। আমি আজ ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।'
সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, এটি তাদের জন্য একটি বড় সাফল্য। সরকারি হেল্পলাইন ১০৯৮ এবং মাঠ পর্যায়ের সমাজকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি হারিয়ে যাওয়া শিশুকে তার শিকড়ে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
বিভি/টিটি



মন্তব্য করুন: