• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ঈদে জমে উঠেছে টাঙ্গাইলের শাড়ির বাজার 

৪০০ কোটি টাকার শাড়ি বাজারজাত

আতাউর রহমান আজাদ 

প্রকাশিত: ১৫:০৪, ১১ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ঈদে জমে উঠেছে টাঙ্গাইলের শাড়ির বাজার 

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে শাড়ির রাজধানীখ্যাত টাঙ্গাইলের পাথরাইলসহ বিভিন্ন শাড়ির বাজার। এবার ঈদে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা মূল্যের ৩০ লাখ টাঙ্গাইল শাড়ি বাজারজাত করা হয়েছে। ইউনেস্কোর ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর এবার দেশ-বিদেশের বাজারে টাঙ্গাইল শাড়ির চাহিদা বিগত বছরগুলোর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।

এবারের ঈদের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বাজিমাত করেছে নতুন ডিজাইনের ‘এসি কটন’ শাড়ি। প্রচণ্ড গরমে আরামদায়ক এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখার বিশেষ গুণাবলির কারণে ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে এই শাড়ি। এছাড়া সুতি, কটকি, হাফ সিল্ক, টাঙ্গাইল জামদানি, সফট সিল্ক, মসলিন কটন, তসর সিল্ক ও বালুচুরিসহ বাহারি ডিজাইনের শাড়ি বাজারে নতুন বৈচিত্র্য নিয়ে এসেছে।

শাড়ি ব্যবসায়ী সুনীল বসাক বলেন, এবার ঈদের বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে আমাদের ‘এসি কটন’ শাড়িটা আসার সাথে সাথেই স্টক শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি সাধ্যের মধ্যে সেরা ডিজাইনগুলো ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে।

শাড়ি বিক্রেতা আব্দুর রহমান বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বেচা-কেনা অনেক ভালো। ইন্ডিয়া থেকেও অনেক পাইকার এবার শাড়ি নিয়ে গেছেন। সুতি জামদানি আর সফট সিল্কের চাহিদাও এবার অনেক বেশি।

ঢাকা থেকে আসা ক্রেতা শারমিন আক্তার বলেন, ‘ঈদের শাড়ি মানেই টাঙ্গাইলের শাড়ি। এবার পাথরাইলে এসে ‘এসি কটন’ শাড়িটা দেখলাম, সত্যিই খুব আরামদায়ক। পরিবারের সবার জন্য এখান থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে মনের মতো শাড়ি কিনতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’

স্থানীয় ক্রেতা সুমাইয়া পারভীন বলেন, টাঙ্গাইল শাড়ির রঙের কাজ আর ডিজাইন এবার অন্যবারের চেয়ে আলাদা। দামও নাগালের মধ্যে আছে। গরমের কথা চিন্তা করে এবার সুতি আর মসলিন জামদানিই বেশি কিনলাম।

তাঁরাপদ শাড়ীজ-এর স্বত্বাধিকারী ও চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক পলাশ চন্দ্র বসাক বলেন, ইউনেস্কোর স্বীকৃতির ফলে বিশ্বজুড়ে টাঙ্গাইল শাড়ির প্রতি আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আমাদের নতুন ‘এসি কটন’ শাড়িটি গরমে পরলে বেশ আরামদায়ক ও ঠান্ডা অনুভূত হয়, যা এবার ক্রেতারা লুফে নিচ্ছেন।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহরাব হোসেন জানান, ইতিমধ্যেই পাইকারি বিক্রি শেষ হয়েছে, এখন খুচরা বেচা-কেনা চলছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকায় এবার ব্যবসা বেশ ভালো হচ্ছে।

টাঙ্গাইল শাড়ি উৎপাদক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক বলেন, ‘এবার ঈদ উৎসবে আমরা প্রায় ৩০ লাখ শাড়ি বাজারে ছেড়েছি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। টাঙ্গাইল শাড়িতে সবসময় নতুনত্ব থাকে, তাই দেশ-বিদেশে এর চাহিদা কখনোই শেষ হয় না।’

ব্যবসায়ীরা জানান, টাঙ্গাইলের শাড়ি এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বিশেষ প্রণোদনা পেলে এই শিল্প থেকে আরও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

বিভি/এআই

মন্তব্য করুন: