• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক: ঈদযাত্রায় যানজটের আশঙ্কা সাড়ে ১৩ কি.মি.

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫:২৩, ১১ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১৫:২৩, ১১ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক: ঈদযাত্রায় যানজটের আশঙ্কা সাড়ে ১৩ কি.মি.

নানা জটিলতায় টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। এতে আসন্ন ঈদযাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহসড়কে যানজটের আশঙ্কা করছেন পরিবহন চালকরা ও যাত্রীরা। যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়কে প্রায় ১ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক। রাজধানী ঢাকার সাথে সড়ক পথে উত্তরবঙ্গের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম এই মহাসড়কটি। শুধু ঢাকা-টাঙ্গাইল- যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের অংশ ৬৫ কিলোমিটার। ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যানবাহনের ভিড়ে এই মহাসড়কে সৃষ্টি হয় যানজটের। প্রতি বছর ঈদে এ মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করেন, যা অন্যন্য সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হয়। এ সড়ক দিয়ে প্রায় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৪ জেলার যানবাহন চলাচল করে। তাই এই সড়কে গাড়ির চাপ থাকে বেশি। এ কারণে প্রতিবছর ঈদে এ সড়কে যানবাহনের চাপে জটলা লাগে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের ঈদযাত্রা স্বাচ্ছন্দ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। এবারের ঈদে মহাসড়কে ৪টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। মহাসড়কে ১ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। লিংক রোডগুলোতে বসানো হবে বাশ কল। পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবে মহাসড়কে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট জানায়, সাসেক-২ প্রকল্প আওতায় ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে টেন্ডারের মাধ্যমে এ মহাসড়কের উন্নীতকরণের কাজ পায় আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড। এ কাজের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৬শ’ কোটি টাকা। পরবর্তীতে আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড ২০২২ সালের মার্চ মাসে মহাসড়কের উন্নীতকরণের নির্মাণ কাজ শুরু করে। ইতিমধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। পুনরায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তবনাও দেয়া হয়েছে। কিন্ত প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ। বর্তমানে ফাইওভার ও আন্ডারপাসের কাজ চলমান রয়েছে। সেই সাথে সার্ভিস লেনসহ মহাসড়কের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যমুনা সেতুতে টোল আদায়ের সফটওয়ারে সমস্যার কারণে যদি টোল আদায় দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকে এবং সেতুর উপর যদি দীর্ঘ সময় গাড়ি আটকা থাকে।  এতে করে টাঙ্গাইলের অংশে দীর্ঘ যানজট হয়। প্রতি বছরই ঈদকে সামন রেখে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা সড়কে লক্করঝক্কর এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি বের করে। এসব গাড়ি হঠাৎ করেই মহাসড়কে বিকল হয়ে যায়। এতে উভয় পাশের গাড়ি থেমে পড়ে। এক পর্যায়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় চালকের অদক্ষতা, সড়ক দুর্ঘটনা এবং গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় যানজট হয়।

সরেজমিনে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, মহাসড়কের এলেঙ্গার থেকে সেতু বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ চলছে। এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারের কাজ চলছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে আন্ডারপাসের কাজও চলমান। ঈদের আগে তরিগরি করে এসব স্থানে কাজ করা হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গের বাস চালক রুহুল আমীন বলেন, এলেঙ্গা ফ্লাইওভারের কাজ চলমান রয়েছে। এখানে রাস্তা চাপা হওয়ার কারণে এক সাথে ৩ থেকে ৪টি গাড়ি অক্রিতম হতে পারে না। কাঁচামাল ব্যতীত ঈদযাত্রায় মহাসড়কে ট্রাক চলাচল বন্ধ করতে হবে। অনেক সময় মহাসড়কে উল্টো পদে যানবাহন চলে।

আরেক বাস চালক রমিজ উদ্দিন বলেন, মহাসড়কের এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেনের সুবিধা  রয়েছে। কিন্ত এলেঙ্গার পর থেকে সিঙ্গেল লেনে যানবাহন চলাচল করতে হয়।

বাস যাত্রী হযরত আলী বলেন, অন্য সময় যানবাহনের চাপ কম থাকে। কিন্ত ঈদ আসলেই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। এর ফলে মহাসড়কে যানজট লেগে যায়। 

এ ব্যাপারে আবদুল মোনেম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আওয়াল বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১ বছর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আসন্ন ঈদ যাত্রায় মহাসড়কের দুই পাশেই চার লেনে যানবাহন চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন, ঈদযাত্রায় যমুনা সেতু দিয়ে সার্বক্ষণিক টোল চালু রাখার চেষ্টা করা হবে। এবার সেতুর দুই প্রান্তে ৯টি করে বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার হবে। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য ২টি করে আলাদা বুথ থাকবে।  

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, যেসব জায়গায় সমস্যা হতে পারে ওইসব জায়গা আমরা চিহ্নিত করেছি। মহাসড়কে ৩টি শিপ্টে ২৪ ঘণ্টাই পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ঈদের ৫দিন আগে থেকে মহাসড়কে পুলিশ যানজট নিরসনে ১ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। ঈদের পরেও ৭ দিন পুলিশ কাজ করবে। জেলা পুলিশের সাথে হাইওয়ে পুলিশ সমন্বয় করে কাজ করবে।

বিভি/এআই

মন্তব্য করুন: