হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করিয়ে মায়ের ইচ্ছা পূরণ করলেন জাপানপ্রবাসী ছেলে
কথায় আছে, শখের দাম কোটি টাকা। মানুষ শখের জন্য কী না করে! এবার মায়ের স্বপ্ন পূরণে মাকে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে নিজ গ্রামের বাড়িতে এলেন জাপানপ্রবাসী ছেলে আকবর হোসেন টিপু। তিনি ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব সফরপুর গ্রামের আবদুল করিম মুহুরী বাড়ির মৃত নওয়াব আলীর ছেলে।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল তিনটায় উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সফরপুর সাহেবের হাট জাকি-মোশাররফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাদের বহনকারী হেলিকপ্টারটি অবতরণ করে। এমন দৃশ্য দেখে দারুণ খুশি তাদের স্বজন ও এলাকাবাসী। হাজারো উৎসুক মানুষ হেলিকপ্টার ও তাদের দেখার জন্য ভিড় জমায়।
জানা যায়, জাপানপ্রবাসী আকবর হোসেন টিপু বুধবার সকালে জাপান থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে ঢাকা থেকে তার মা জোসনারা বেগম, ভাই আরু মিয়া, ফুফু আমেনা বেগম ও বোন হোসনে আরা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে নিজ গ্রামের বাড়িতে আসেন। হেলিকপ্টারটি গ্রামে অবতরণ করলে তাদের ফুলের মালা গলায় পরিয়ে বরণ করেন আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী।
তার চাচা জামাল উদ্দিন জানান, জীবিকার তাগিদে প্রায় ৭ বছর আগে টিপু জাপানে যান। দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি মায়ের ইচ্ছানুযায়ী পবিত্র হজ পালন করান। এর মধ্যে তিন বছর আগে টিপু বাড়িতে এসে তিন মাসের ছুটি কাটিয়ে আবার জাপান ফিরে যান। সেখানে তিনি একটি কোম্পানিতে চাকরির পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা করেন। মায়ের স্বপ্ন অনুযায়ী গ্রামের বাড়িতে একটি বিলাসবহুল বাড়িও নির্মাণ করেন তিনি। মায়ের শেষ স্বপ্ন ছিল হেলিকপ্টারে চড়া। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে টিপু ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে হেলিকপ্টার ভাড়া করেন। ৫ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে টিপু সবার ছোট এবং অবিবাহিত। এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে থাকেন তিনি। তার সহযোগিতায় উপকৃত হয়েছেন আত্মীয়স্বজনসহ এলাকার অনেক মানুষ।
আকবর হোসেন টিপু বলেন, মায়ের স্বপ্ন ছিল বড় হজ করা- তাকে হজ করিয়েছি। একটি বিলাসবহুল বাড়ি দেখার স্বপ্নও পূরণ করেছি। সর্বশেষ স্বপ্ন ছিল, আমি বিদেশ থেকে আসার পর মাকে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে বাড়ি ফেরা। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। আমার মতো প্রত্যেক সন্তানের উচিত বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করা। আমার হেলিকপ্টারে বাড়ি ফেরায় এলাকাবাসীও খুশি হয়েছে। আমি চাই, আমার মতো সব সন্তানই যেন বাবা-মায়ের সেবা করে এবং তাদের স্বপ্ন পূরণ করে।
তার মেজ ভাই, ফেনী জজ কোর্টের আইনজীবী সহকারী আরু মিয়া বলেন, আমাদের বাবা মারা যাওয়ার পর আমরা মায়ের আদরে বড় হয়েছি এবং কর্মক্ষেত্রে সফল হয়েছি। আমার ছোট ভাই টিপু মায়ের সব স্বপ্ন পূরণ করে চলেছে। তার কারণে আমিও হেলিকপ্টারে উঠতে পেরে অনেক খুশি হয়েছি। আমাদের বাবা জীবিত থাকলে আজকের এই আনন্দের দিনে খুব খুশি হতেন।
টিপুর মা জোসনারা বেগম বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া। তিনি আমার সন্তানের মাধ্যমে আমার সব স্বপ্ন পূরণ করেছেন। হেলিকপ্টারে চড়ে আমার খুব ভালো লেগেছে। আমাদের গ্রামের নারী-পুরুষ ও শিশুরা আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। গ্রামের মানুষ কখনো এত কাছ থেকে হেলিকপ্টার দেখেনি—আমিও দেখিনি। আমি চাই, পৃথিবীর সব সন্তান যেন আমার ছেলে আকবরের মতো হয়।
হেলিকপ্টারটি মাঠে নামার পর পুরো এলাকায় হৈচৈ পড়ে যায়। প্রচণ্ড বাতাসে চারদিকে ধুলাবালি উড়তে থাকে। সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের একটি টিম।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: