চুরি করে ধরা পড়ায় হাসপাতালের ৪ তলা থেকে লাফ, অতঃপর...
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নতুন ভবনের ৪ তলায় চুরি করে ধরা পড়ে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে অজ্ঞাত (৪০) এক ব্যক্তি লাফ দিয়ে মৃত্যু হয়েছে। তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। সোমবার দুপুর ১ টা ২০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত শনিবার জেনারেল হাসপাতালের ৪ র্থ তলার প্যাথলজি বিভাগের ২২৩ নং কক্ষ থেকে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পাঁচগাও এলাকার একজন রোগীর মোবাইল চুরি হয়। সোমবার দুপুরে হাসপাতালের একই বিভাগের একই কক্ষ থেকে মোবাইল চুরির সময় রোগী ও রোগীর স্বজনরা অজ্ঞাত ওই যুবককে হাতে নাতে আটক করে। আটকের পর রোগী ও স্বজনরা হাসপাতালের ৪ তলার প্যাথলজি বিভাগের ২২৩ নং কক্ষের বারান্দায় আটক রেখে পুলিশকে খবর দিতে যায়। এ সুযোগে ওই ব্যক্তি বারান্দা থেকে লাফ দেয়। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালের ইমারজেন্সি বিভাগে নিয়ে আসেন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
মোবাইল চুরি যাওয়া ভুক্তভোগী নারী জানান, গত শনিবার আমার মোবাইল চুরি হয়। দুপুরে আমাদের ওয়ার্ডে মোবাইল চুরি করে যাওয়ার সময় ওয়ার্ডের লোকজন তাকে হাতেনাতে আটক করে। পরে বারান্দায় আটক রেখে আমি পুলিশ আনতে যাই। এসে দেখি সে বারান্দায় ফাঁক দিয়ে লাফ দেয়।
একই ওয়ার্ডের রোগীর স্বজন জানায়, আমরা তাকে হাতেনাতে আটক করে বারান্দায় আটকে রাখি। কাউকে মারধর করতে দেইনি। তার নাম ঠিকানা বারবার জিজ্ঞেস করলেও বলেনি। পরে পুলিশের ভয়ে বারান্দায় ফাঁকা দিয়ে লাফ দেয়।
প্রত্যাক্ষদর্শী ইমন আখন বলেন, লোকটা যখন বেলকুনির বাইরে ছিলো তখন আমিসহ অনেক লোকজন বলছে সাবধানে নেমে আসতে, কিন্তু লোকটি ভয়ে লাফ দিয়ে দ্বিতীয় তলার এসির সাথে ধাক্কা খেয়ে একেবারে নিচে পাকা রাস্তায় পড়ে যায়। এতে লোকটির মাথা, মুখ থেতলে যায়, পাশাপাশি লোকটির মেরুদণ্ড ভেঙে যায়।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. এ এস এম ফেরদৌস বলেন, অগাতনামা একজন ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। লোকটি হাসপাতালের ৪ তলা থেকে লাফ দেয়ার কারণে মারাত্নকভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয়। মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো। ওই লোকটির নাম ও ঠিকানা আমরা জানতে পারিনি।
তিনি আরোও বলেন, আমরা সমাজকল্যানের মাধ্যমে ওই ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়েছি। তবে সেখানে যাওয়ার পর লোকটি বেঁচে আছি নাকি মারা গেছে সেই তথ্য আমাদের জানা নেই।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো মমিনুল ইসলাম জানান, হাসপাতালের মোবাইল চুরি নিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে যুবকটি হাসপাতালের ৪ তলা লাফ দিয়েছে। তদন্ত চলছে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: