• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

পাহাড়ে উৎসবের রঙ, বর্ণিল আয়োজনে মাতলো রাঙামাটি

নন্দন দেবনাথ, রাঙ্গামাটি

প্রকাশিত: ১৮:৩১, ৯ এপ্রিল ২০২৬

ফন্ট সাইজ
পাহাড়ে উৎসবের রঙ, বর্ণিল আয়োজনে মাতলো রাঙামাটি

গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব। ভোরের নরম আলোয় কাপ্তাই হ্রদের জলে ভেসে ওঠে রঙিন ফুল। প্রার্থনা, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের মিশেলে নতুন বছরকে স্বাগত জানান পাহাড়ি মানুষ।

পুরোনো বছরের সব দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন দিনের আশায় রং, গান ও আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে পাহাড়ের প্রতিটি জনপদ। বর্ণিল সাজে সেজে ওঠে পাড়া-মহল্লা।

শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রাণের উৎসব—বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান, পাতা ও বিহু। বৃহস্পতিবার রাঙামাটিতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রাটি এসে শেষ হয় পৌরসভা প্রাঙ্গণে। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সাবেক সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির শীর্ষ নেতা ঊষাতন তালুকদার।

উৎসবে অংশ নেওয়া পাহাড়ি নারী-পুরুষরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে জানান, এই আয়োজন শুধু আনন্দ নয়, বরং তাদের সংস্কৃতি ও অস্তিত্বের প্রতীক।

আগামী ১২ এপ্রিল কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হবে উৎসবের মূল আয়োজন। ভোরে বাগান থেকে ফুল সংগ্রহ করে দলবেঁধে নদীর ঘাটে যান নারী-পুরুষরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুম্ম জনগোষ্ঠীর অধিকার ও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।

অন্যদিকে, পাহাড়ের উন্নয়নে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।

চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই এবং ত্রিপুরাদের বৈসু—নাম ভিন্ন হলেও উৎসবের রং ও আনন্দ এক। নাম বদলায়, রং বদলায়, তবু উৎসবের প্রাণ একটাই।

ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যের এই মিলনেই বেঁচে থাকে পাহাড়, বেঁচে থাকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত