‘বড় নাশকতা’ করে ভারতে পালানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের, অতঃপর...
পাবনা শহরে বড় ধরনের নাশকতা চালিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগে সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাবসহ ১৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাদের সঙ্গে পাসপোর্ট ছিল এবং নাশকতার পর ভারতে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনাও ছিল। নাশকতার প্রস্তুতির সময় হাতবোমা ও দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৬টার দিকে পাবনা শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ রোডের ইন্দিরা মোড়ের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। সদর থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), সিআরটি ও জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। পরে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ভোর থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে জড়ো হতে থাকেন। তাদের নেতা আব্দুল ওহাব সেখানে পৌঁছানোর পর নাশকতা শুরু করার পরিকল্পনা ছিল বলে পুলিশের দাবি। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আগে থেকেই বিষয়টি জানতে পেরে অভিযান চালায় পুলিশ।
আটক ১৪ জন
আটক ব্যক্তিরা হলেন—পাবনার সুজানগর পৌর এলাকার মথুরাপুরের মৃত জাহেদ আলী শেখের ছেলে সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব (৬২); তার সহযোগী সুজানগরের মাস্টারপাড়ার আব্দুর রশিদ শেখের ছেলে মো. রাব্বি (২৩); মথুরাপুর এলাকার ইকবাল মিয়ার ছেলে মিথুন মিয়া (৩০); নাজির প্রামাণিকের ছেলে মো. হৃদয় (২০); এনামুল হকের ছেলে ফয়সাল (১৮); একই এলাকার সাদেক সরদারের ছেলে আরাফাত হোসেন শুভ (১৮); সুবাহান প্রামাণিকের ছেলে শিমুল প্রামাণিক (১৬); মাহাতাব প্রামাণিকের ছেলে মিজান প্রামাণিক (১৮); ওসমান খাঁর ছেলে আলহাজ্ব খাঁ (২৪); দুর্গাপুর এলাকার আব্দুল আলীম শেখের ছেলে নাজমুল হাসান (১৮); আব্দুল মান্নানের ছেলে মতিউর রহমান (৩২); নারায়ণপুর এলাকার নবীর উদ্দিন শেখের ছেলে রঞ্জু শেখ (১৭); সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নতুন গোয়ালবাড়িয়া এলাকার খলিল প্রামাণিকের ছেলে সাবিক (১৯) এবং সাগর প্রামাণিকের ছেলে নাজমুল হোসেন (১৯)।
যা বলছে পুলিশ
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যেই তারা মাইক্রোবাসে করে পাবনা শহরে এসেছিলেন। নাশকতা চালিয়ে দ্রুত ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও তাদের ছিল বলে জানান তিনি।
ওসি বলেন, “আমাদের কাছে আগে থেকেই তাদের পরিকল্পনার গোপন তথ্য ছিল। ফলে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে।”
এর আগেও আটক হয়েছিলেন আব্দুল ওহাব
পুলিশ জানায়, ৫ আগস্টের পর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো আটক হলেন আব্দুল ওহাব। এর আগে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মথুরাপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ সময় আটজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
ছিনিয়ে নেওয়ার তিন দিন পর, ৫ ফেব্রুয়ারি আব্দুল ওহাবকে আবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি সুজানগর এলাকায় আবারও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালিয়ে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে উপজেলার মথুরাপুরে অভিযান চালিয়ে আব্দুল ওহাবসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ২১ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। কয়েক সপ্তাহ পর তারা জামিনে মুক্তি পান।
ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনার দাবি
একটি সূত্রের দাবি, আগের কর্মকাণ্ডের কারণে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনজরে ছিলেন আব্দুল ওহাব। সর্বশেষ নাশকতা চালিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা ছিল তার। পাশাপাশি পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদ পাওয়ার প্রত্যাশাও ছিল বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আটক ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই হবে।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: