• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার রাস্তায় ‘মায়া রাইড’, নারীদের পৌঁছে দিচ্ছেন নারী রাইডাররা! 

প্রকাশিত: ২২:০০, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ

ঢাকার রাস্তায় নারী যাত্রী নিয়ে ছুটছে নারী বাইকার। তাও আবার রাইড শেয়ারে। এমনই এক যাত্রার দেখা মিললো রাজধানীতে। কিন্তু কীভাবে শুরু হলো এই উদ্যোগ?

রাজধানীর ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিন ছুটছেন হাজারো নারী। অফিস, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ব্যবসার কাজে গন্তব্য আলাদা হলেও যাত্রাপথের অস্বস্তি যেন একই। বাসে ঠাসাঠাসি ভিড়, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ কিংবা হয়রানির ভয়, আবার রাইড শেয়ারিংয়ের বাইকে অপরিচিত পুরুষের পেছনে বসতেও অনেকের থাকে অস্বস্তি। এমন পরিস্থি দেখে এক দম্পতির মনে প্রশ্ন জাগে- নারীর যাত্রার চালক যদি হন একজন নারী?

এসব ভাবনা থেকেই ফাহাদ চৌধুরী ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতি উদ্যোগ নেন নারীদের জন্য শুরু করবেন ‘মায়া রাইড’। মাত্র পাঁচজন নারী চালক নিয়ে শুরু হওয়া এই প্ল্যাটফর্ম পাঁচ মাসেই পেয়েছে ৯৯ জন নারী চালক। ওয়েবসাইটে বুকিং করে নারী যাত্রীরা পৌঁছে যাচ্ছেন গন্তব্যে।

তবে শুরুটা সহজ ছিল না। সামাজিক কটূক্তি, চালক ও গাড়ি সংকট কিংবা মাঝপথে কাজ ছেড়ে দেওয়া— সবই সামলাতে হয়েছে তাদের। তারপরও থামেননি তারা। নারী চালকেরা ভয় ও দ্বিধাকে জয় করে নিজেরা আয়ের পাশাপাশি অন্য নারীদেরও নিরাপদে চলাচলে সাহায্য করছেন বলে জানান।

নারী যাত্রীদের কাছেও মিলছে স্বস্তির অভিজ্ঞতা। নারী চালকের সঙ্গে গেলে নিরাপত্তার পাশাপাশি মানসিকভাবেও স্বস্তি মিলছে তাদের। আর নারী চালকরা বলছেন, অন্য নারীদের যাত্রা নিরাপদ করতে গিয়ে কর্মসংস্খান হচ্ছে তাদেরও। 

ডেটা মার্কেটিংয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা ফাহাদের কাছে শুরুটা ছিল এক ধরনের পরীক্ষা। কিন্তু সেই পরীক্ষাই ধীরে ধীরে রূপ নেয় একটি পূর্ণাঙ্গ সেবায়। মায়ার রাইডের চেয়ারম্যান ফাহাদ চৌধুরী জানান, এখন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রাইড বুক করানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর যাদের নিজেদের বাইক বা গাড়ি আছে, তারাও যুক্ত হচ্ছেন চালক হিসেবে। পথটা সহজ ছিল না। নারী চালকের সংকট, মাঝপথে কাজ ছেড়ে দেওয়া, এমনকি সমাজের কটূক্তি—সবই সামলাতে হয়েছে। শুরুতে অনেক নারীও আগ্রহ দেখাননি। পরে তাদের সঙ্গে কথা বলে, উৎসাহ দিয়ে কাজে যুক্ত করান স্ত্রী জান্নাত। বর্তমানে চালকদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে আয়ের মাত্র ১০ শতাংশ কমিশন।

মায়া রাইডের পরিধি এখন আরও বড়। কর্মজীবী নারীদের পাশাপাশি স্কুলগামী শিশুদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য চালু হয়েছে ‘মায়া কিডস’। প্রি-বুকিংয়ের মাধ্যমে বাসা থেকে স্কুল, আবার স্কুল থেকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে শিশুদের। প্রয়োজনে পরিবারের একজন সদস্যও যেতে পারেন সঙ্গে।

মায়া রাইডের এমডি জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, নারীদের প্রতিদিনের যাত্রার সমস্যাগুলো কাছ থেকে দেখেই উদ্যোগটি শুরু করেন।  লক্ষ্য নিরাপদ যাত্রার পাশাপাশি নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। পাঁচজন দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এখন প্রায় ৯৯ জন চালক আছেন। এই সংখ্যা সামনে আরও বাড়বে। 

ফাহাদ-জান্নাতের লক্ষ্য শুধু নিরাপদ যাত্রা নয়, নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাও। নিজেদের বাইক কিংবা গাড়ির দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অন্য নারীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন চালকেরা। আর এই উদ্যোগকে আরও গোছাতে তৈরি হচ্ছে নতুন অ্যাপ। যেখানে থাকবে যাত্রী ও চালকের আলাদা তথ্য, রাইডের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং আরও নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা। 

নারীর নিরাপদ যাত্রা আর নারীর কর্মসংস্থান—দুই লক্ষ্য সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছে মায়া রাইড। পাঁচজন দিয়ে শুরু হওয়া সেই ছোট উদ্যোগ এখন হয়ে উঠছে নারীর জন্য নারীরই তৈরি এক নতুন যাত্রাপথ।
 

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: