কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের কাজ ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন, চালু কবে?
মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হতে পারে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। আর জুলাইয়ের শুরুতে যাত্রী নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।
রাজধানীতে মেট্রোরেলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করছে। আর মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণের কাজ চলমান।
শুধু মতিঝিল স্টেশন দিয়েই প্রতিদিন প্রায় এক লাখ যাত্রী যাতায়াত করেন। কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হলে যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এর আগে ডিএমটিসিএল জানিয়েছিল, কমলাপুর পর্যন্ত অংশে আগামী জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হবে। এপ্রিলে যাত্রী নিয়ে ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনাও ছিল। তবে সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রকৌশলী জানান, কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায় থেকে জুন-জুলাইয়ে মেট্রোরেল চালুর নির্দেশনা আছে। তবে আনুষঙ্গিক কিছু কাজ বাকি রেখেই জুলাইয়ে মেট্রো চলাচল শুরু করতে পারে। এতে সমস্যা হবে না।
সরেজমিন দেখা গেছে, মেট্রোরেলের মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত অংশে উড়ালপথ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন রেললাইন বসানোর কাজ চলছে। রেললাইনের দুই পাশে বিদ্যুতের খুঁটি বসানো হয়েছে। এসব খুঁটির ওপর তার টানা হবে।
নির্মাণকাজে যুক্ত প্রকৌশলীদের তথ্য অনুযায়ী, রেললাইন বসানোর কাজ প্রায় ৩০ শতাংশ শেষ হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে এ কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। বিদ্যুতের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
কমলাপুর স্টেশনে লিফট বসানো, সংকেতব্যবস্থা ও স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায়ের যন্ত্রপাতি স্থাপন, টাইলস লাগানো, শৌচাগার তৈরি এবং পানির পাম্প বসানোর কাজ বাকি রয়েছে। ভাড়া আদায়ের ব্যবস্থাসহ কিছু যন্ত্রপাতি জাপান থেকে আসতে দেরি হতে পারে। এ কারণে চালুর সময় পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্পটি এমআরটি লাইন-৬ নামে পরিচিত। প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল ওয়াহাব বলেন, মতিঝিল-কমলাপুর অংশের অবকাঠামো নির্মাণকাজের সার্বিক অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ। আগামী জুনের শেষে বা জুলাইয়ের শুরুতে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।
তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ের তিন মাস আগেই কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিভি/টিটি













মন্তব্য করুন: